সরকারি কর্মদিবসের প্রথম দিন রোববার সকালে অফিসে এসেই সচিবালয়ের সাত মন্ত্রণালয়ে ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপচয় রোধ ও সাশ্রয়ী হতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন তিনি।
জানা গেছে, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার সকালে হেঁটে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে গিয়ে এসব মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ের নিচে এসে পৌঁছান সরকারপ্রধান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে হাঁটা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। হাঁটতে হাঁটতে তিনি চলে যান সচিবালয়ের অপর প্রান্তে অবস্থিত ৬ নম্বর ভবনে।এ ভবনে ১০টির মতো মন্ত্রণালয় রয়েছে। সেখানে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেন।
পরে পাশের ৫ নম্বর ভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এরপর সবশেষ ৩ নম্বর ভবনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে পুনরায় নিজ কার্যালয়ে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন চলে টানা এক ঘণ্টা।
পরিদর্শনের এই পুরোটা সময় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন ।
এদিকে রোববার প্রথম কর্মদিবসে সকালে সচিবালয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী এই পরিদর্শনে যান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন। এর পরপরই তিনি এই পরিদর্শনে যান।’
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রথমে তিনি ৬নং ভবনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অপচয় রোধ এবং সাশ্রয়ী হতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।’
‘যেমন বিদ্যুতের অপচয় রোধে লাইট কম ব্যবহার, বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) কম ব্যবহার অথবা নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ব্যবহার করা, জানালার পর্দা সরিয়ে দিনের আলোর ব্যবহার ইত্যাদি’, যোগ করেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলেছেন, ‘‘দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে হলে বুকে ধারণ করে ভালোবাসতে হবে। এই দেশ আপনাদের-আমাদের সবার।”’
আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে টেবিল চেয়ার, আসবাপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে সকলকে যতœ ও দেখভাল করা পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন যে, সরকারি সম্পদ মানে দেশের সম্পদ ৃ এই সম্পদ সকলকে যতœ করে রাখতে হবে।’
একে একে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ ও বন, সমাজকল্যাণ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এই সাতটি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।প্রধানমন্ত্রীর এই ‘হঠাৎ’ পরিদর্শনের -কর্মকর্তা-কর্মচারিরা হতচকিত হয়ে পড়তে দেখা যায়। অনেক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তৎপর হয়ে উঠতে দেখা যায়। যেসব মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন করেন খোঁজ-খবর নিয়ে পরে জানা গেছে, অনেক মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তারা উপস্থিত হতে না হতেই এই ঘটনা ঘটে যায়।
প্রধানমন্ত্রী ‘ঝটিকা’ এই পরিদর্শনের পর নিজের দপ্তরে এসে বৈঠকে বসেন কৃষি কার্ড সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভায়। কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।