সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবী কণ্ঠস্বর জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জাতীয় দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ ও ‘প্রথম আলো’-এর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গতকাল রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সব সময় গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা মনে করি, গণমাধ্যমের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের কর্মকা- ছাত্রশিবির কখনোই সমর্থন করে না। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো—একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ ও ‘প্রথম আলো’-এর কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও অপরাজনীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও রাকসু ভিপি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারির ব্যক্তিগত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ‘স্লিপ অব টাং’-এর বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটা ছাত্রশিবিরের কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য বা অবস্থান নয়। আমরা স্পষ্ট ঘোষণা করছি, গণমাধ্যমে কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার সাথে ছাত্রশিবির দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি এই ধরনের হামলার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আশা করি অপপ্রচারের কারণে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি অবসান হবে।
আমরা সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত দাবি করছি। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শহীদ ওসমান বিন হাদির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। সকল অবস্থায় আমাদেরকে ধৈর্য, প্রজ্ঞা, দায়িত্বশীল আচরণ ও জাতীয় ঐক্যকে প্রাধান্য দেওয়া দরকার।
ছায়ানটে হামলার অভিযোগে
মামলা, আসামী অজ্ঞাত
হ স্টাফ রিপোর্টার
সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের ভবনে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকার রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ছায়ানট ভবনে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় শনিবার মধ্যরাতে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ছায়ানটের প্রধান ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
ছায়ানট কর্তৃপক্ষ জানায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত ছায়ানট ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরা, আসবাবপত্র, তবলা, হারমোনিয়াম, বেহালা ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন কক্ষে অগ্নিসংযোগ চালায়। হামলার সময় ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী লুটপাট করা হয়।
তবে এ ঘটনায় মোট কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ছায়ানট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর ছায়ানট ভবন পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। এ সময় তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। পরে ছায়ানট ভবনের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গানে গানে এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদ জানান।