কুষ্টিয়ার মিরপুর রেলস্টেশনটির বয়স শত বছরের বেশি। জেলার অন্যতম সুন্দর রেলওয়ে স্টেশন এটি। তবে বর্তমানে সেই সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতা আর কর্তৃপক্ষের অবহেলায়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে ভগ্নদশায় প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা ও আশপাশের প্রায় ১৫ লাখ মানুষের গন্তব্যে যাতায়াতের ঠিকানা মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন। তবে নানা জটিলতা ও দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতা আর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় স্টেশনটি প্রায় বন্ধের উপক্রম।

দৃষ্টিনন্দন স্টেশন হিসেবে নির্মাণ হলেও সংস্কার ও সম্প্রসারণের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে যাত্রীসেবা। কয়েক লক্ষ মানুষের রেল যোগাযোগের ভরসা এই স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ হচ্ছে না কোনো স্টেশন মাস্টার। স্টেশনে ৪টি ট্রেন থামলেও পর্যাপ্ত সেবা ও নিরাপত্তা নেই যাত্রীদের।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রেল স্টেশন চালু হয় ১৮৬৭ সালে। মেহেরপুর জেলা ও মিরপুর উপজেলার মানুষের রেল যোগাযোগের নিকটতম স্টেশন এটি। খুলনা থেকে উত্তরবঙ্গের রূপসা, কপোতাক্ষ ও মহানন্দা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-রাজশাহী রুটের মধুমতি ট্রেন থামে এই স্টেশনে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী স্টেশনের এখন জরাজীর্ণ দশা। বিপুল সংখ্যক যাত্রী চলাচল করলেও গত ৬ মাস ধরে নিয়োগ হয়নি কোনো স্টেশন মাস্টার। মাত্র দুজন কর্মচারী দিয়েই চলছে কার্যক্রম।

যাত্রীরা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে স্টেশনে ঠিকমতো টিকিট পাওয়া যায় না। নেই বসার আসন ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা।

ট্রেনের সময়সূচি না জানা ও ট্রেন আসার ঘণ্টা না শোনায় স্টেশন এলাকায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়াও স্টেশনটিতে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতাসহ নেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী। যাত্রীদের জন্য নেই পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থাও। অপেক্ষমাণ প্লাটফর্মও জরাজীর্ণ, নেই যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত আসন। এছাড়া পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যা হলেই স্টেশন চত্বরে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। জনবল সংকটে যাত্রী সেবায় ব্যাঘাত ঘটছে স্বীকার করে স্টেশনের নানা সমস্যার জানালেন রেল কর্মকর্তা।

মিরপুর রেল স্টেশনের বুকিং সহকারী সুজন আহমেদ বলেন, ‘মাস্টার না থাকার কারণে কিছু কিছু অভিযোগ আসে। সিগন্যাল না থাকার কারণে যাত্রীদের পার হওয়ার সময় কষ্ট হয়। আমি জানতে পারছি কিছুদিনের মধ্যে হয়তো মাস্টার দিতে পারে।’

পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা হাসিনা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন সমস্যার সমাধান করা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশীর বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন বলেন, ‘অর্ডার করা হয়েছে মাস্টার এলেই খুলে দিব।’

শত বছরের ইতিহাস আর স্থাপত্যের সাক্ষী স্টেশনটি অবহেলা আর অযত্নে সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল নিয়োগ ও কার্যকর মনিটরিং না হলে হয়তো অচল হয়ে পড়বে শতবর্ষী এ স্টেশন।

প্রায় ১৫ লাখ মানুষের রেল যাতায়াতের মাধ্যম কুষ্টিয়ার এই মিরপুর রেলওয়ে স্টেশন। এ স্টেশনের সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এ দাবী এলাকাবাসীর।