সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা : টানা ২২ বছর শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন শিশুদের মাঝে। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ নিজের জীবনই কাটছে ঘোর অন্ধকারে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার সেই সাবেক ব্রাক শিক্ষিকা রুপা রায়। জরাজীর্ণ এক ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করা এই শিক্ষিকার আকুতি- শেষ বয়সে যেন একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পান। সারিয়াকান্দি পৌর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উত্তর পাশে ৪-৫টি ভাঙা টিনের ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন রুপা রায়। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত স্থানীয় ব্রাক স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে স্বামী শ্রী বিকাশ রায় স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার পর থেকেই তার সংসারে অভাবের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। ২০১৭ সালে “ব্রাক শিক্ষা কর্মসূচি” প্রকল্প শেষ হলে চাকরি হারান তিনি। একই বছর ছোট মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এই শিক্ষিকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রুপা রায়ের থাকার ঘরটিতে নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই পানি পানের জন্য টিউবওয়েল। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চালা বেয়ে পানি পড়ে। নিরুপায় হয়ে পেটের দায়ে অন্যের বাড়িতে কাজ শুরু করলেও সম্প্রতি পা ভেঙে যাওয়ায় এখন তাও বন্ধ। বর্তমানে রক্তনালীর (শিরার) জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি বগুড়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তার চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছেন তার হাতে গড়া সাবেক শিক্ষার্থীরা।

অসুস্থ শরীরে রুপা রায় বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর আসবাবপত্র বিক্রি করে দেনা শোধ করেছি। এখন ঘরে একটি চৌকি ছাড়া আর কিছুই নেই। ঠিকমতো খেতে পারি না, ওষুধ কেনার টাকা নেই। সাবেক ছাত্ররা সাহায্য করছে বলেই চিকিৎসা নিতে পারছি। সরকার যদি আমাকে একটা স্থায়ী ঘর করে দিতো, তবে বাকি জীবনটা অন্তত শান্তিতে মরতে পারতাম।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সারিয়াকান্দি পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আগে আমাদের জানা ছিল না। আমরা দ্রুত খোঁজ নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে তাকে ঘর তৈরির জন্য ঢেউটিন এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করব।

এক সময়ের আদর্শ এই শিক্ষিকার দুরাবস্থা দেখে স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।