চকরিয়া সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, দাঁড়িপাল্লাসহ দশদলীয় প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বাংলাদেশকে বিজয়ী করুন। একটি বৈষম্যহীন কাংখিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতি আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। আমাদের অঙ্গীকার আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়বোই গড়বো ইনশাআল্লাহ। নতুন বাংলাদেশে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে সাংবিধানিক রূপ দিতে গণভোটে সমর্থন দেয়ার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, যে বাংলাদেশে দুর্নীতি থাকবে না, ক্ষমতার অপব্যবহার থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না। শান্তি সম্প্রীতির দেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দশ দলীয় জোটের নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান।
তিনি আরো বলেন, এই চকরিয়া-পেকুয়ার দলীয় জোটের একমাত্র প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে চকরিয়া-পেকুয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার বিকাল তিনটায় চকরিয়া পৌরসভার বাসটার্মিনাল চত্বরে মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য মুহাম্মদ শাহজাহান উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। পরে তিনি দশদলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুককে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামের মাধ্যমে দু’হাত উঁচিয়ে উপস্থিত হাজার হাজার ছাত্রজনতার মাঝে পরিচয় করিয়ে দেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার-১ আসনের পরিচালক জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আখতার আহমদ। তিনি শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
বিশাল সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি; চকরিয়া-পেকুয়া তথা কক্সবাজার-১ আসনের বিজয় নিশ্চিত করতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে জনগণ জেগে উঠেছে।
সমাবেশে মুখ্য অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক।
অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাকসু ভিপি ইবরাহিম হোসেন রনি, জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন এনসিপি চকরিয়ার মুখপাত্র সাজ্জাদ হোসেন, চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা মোজাম্মেল হক, জামায়াত নেতা আরিফুর রহমান চৌধুরী মানিক ও বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালেকুজ্জামান।
এসময় চকরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল বাশার, চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমীর আরিফুল কবির, পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ফরিদুল আলম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মীর মুহাম্মদ আবু তালহা, চকরিয়া উপজেলার জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা ছাবের আহমদ, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুজ্জামান মনজু, ইসলামী ছাত্রশিবির কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক সভাপতি জাহেদুল ইসলাম নোমান, সাবেক সভাপতি মুছা ইবনে হোসাইন বিপ্লব, সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা জিএস রফিক বিন সিদ্দিক, আবু নাঈম আজাদ, লক্ষ্যারচরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছারসহ জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পুরো সমাবেশে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ করিম, চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা কুতুব উদ্দিন ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ হোসনে মোবারক।
সমাবেশ শেষে মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লার বিশাল মিছিল পৌর বাসটার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরশহরের প্রবেশদ্বার চারলেনের মাতামুহুরী ব্রিজের উত্তরপাশে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে সমাবেশে নির্বাচনীসহ জাগরণমূলক বিভিন্ন সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বরেণ্য সুরকার ও গীতিকার শিল্পী শোয়াইব বিন হাবিবের নেতৃত্বে প্রবাল, মোহনাসহ অতিথি শিল্পীরা।