কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়া শহরজুড়ে অনুমোদনহীনভাবে গড়ে উঠেছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান। এসব দোকানের নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা বিস্ফোরক লাইসেন্স, ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া সিলিন্ডার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলায় খুচরা পর্যায়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারের বেশি, যাদের অধিকাংশই অনুমোদনহীন। এসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে সকল ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা করে বিক্রি করছে গ্যাস সিলিন্ডার। শহরের মুদি দোকান, ফার্মেসী, ক্রোকারিজ এমনকি ফাস্টফুডের দোকানেও এখন বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। বিক্রেতাদের অনেকেই স্বীকার করেছেন, তাঁদের দোকানের নেই কোনো বৈধ অনুমোদন। অনেকের আবার সিলিন্ডার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম সম্পর্কেও ধারণা নেই।
শুধু এ রেস্টুরেন্টেই নয়, জেলার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ আর অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে নামে-বেনামে বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার। বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সনদ ছাড়া একজন ব্যক্তি ১০০ কেজি অর্থাৎ ১২ কেজি ওজনের ৮টি এবং ২৩ ও ২৪ কেজি ওজনের চারটি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার সংরক্ষণ করতে পারবেন। তবে সনদপত্র ছাড়াই অধিকাংশ গ্যাস বিক্রেতা শত শত গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ও বিক্রি করছেন।
বিস্ফোরক ছাড়পত্র বা বৈধ অনুমোদনের কাগজ না থাকলেও নিয়ম মেনে বিক্রির দাবি তুলছেন অনেক দোকান মালিক।
অনেক বিক্রেতারাও বলেন, ‘বাজারে যেটা পাই, সেই সিলিন্ডার কিনে ব্যবহার করি। সরকার থেকে এসব অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করলে আমরা সঠিক গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বাজারে পেতাম। সরকার থেকে কখনো এ বিষয়ে নির্দেশনাও পাইনি।’
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারার শামীম আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘কোনো একটি গ্যাস সিলিন্ডারের গায়ে সরকার নির্ধারিত কোনো মূল্য লেখা নেই। দোকানদার যখন যেভাবে পারে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।