মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বন্দরনগরীর সর্বস্তরের মানুষ। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে জনস্রোত; প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে পুলিশের একটি চৌকস দলের গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগেই হাজারো মানুষ শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন–এর মেয়র শাহাদাত হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম নগরীর দুই আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং দক্ষিণের সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহিদরা জীবন দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এরপর একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ এবং পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শহিদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান—চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, পিবিআই, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদপ্তর, বন বিভাগ, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও ছিল ব্যাপক উপস্থিতি। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
প্রথম প্রহরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার ভোরে শুরু হয় প্রভাতফেরি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ খ- খ- মিছিল নিয়ে শহিদ মিনারে সমবেত হন। অমর একুশের গান গেয়ে, অনেকেই খালি পায়ে হেঁটে শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, জেএসডি, ন্যাপ, বাসদ, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস), ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বোধন আবৃত্তি পরিষদ, প্রমা আবৃত্তি সংগঠন, নির্মাণ আবৃত্তি অঙ্গন, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র সংসদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, উচ্চারক, বৌদ্ধ সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন ভাষা শহিদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।