স্টাফ রিপোর্টার,গাজীপুরঃ
‘ব্রি অর্গানিক ফার্টিলাইজার’ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি এর মধ্যেএকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রবিবার ব্রি সদরদপ্তরে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে ব্রির পক্ষে মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান এবং এসিআই এর পক্ষে গ্রুপ অ্যাডভাইজার ড. ফা হ আনসারী স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রির পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মুন্নুজান খানম, ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ড. মো. ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মুকুলসহ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীগণ এবং এসিআই এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (ফার্টিলাইজার) মো. বশির আহমদ।
ব্রি সূত্র জানায়, ব্রির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ পরিবেশ বান্ধব ১০টি ব্যাকটেরিয়া, বাজারের কাঁচা শাক-সবজির অবশিষ্টাংশ, রান্নাঘরের পচনশীল বজর্য পদার্থ, রক ফসফেট (শতকরা ৫ ভাগ) ও বায়োচার (শতকরা ১৫ ভাগ) মিশিয়ে ব্রি-অর্গানিক ফার্টিলাইজার উদ্ভাবন করেছে।
‘ব্র্রি অর্গানিক ফার্টিলাইজার’ব্যবহারের ফলে মাটির জৈব কার্বনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, পানি ধারণক্ষমতা উন্নত হয় এবং উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা গাছের শিকড়কে আরও শক্তিশালী করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং ধান উৎপাদনে টেকসই ফলন নিশ্চিত করে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্রি সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে ধান উৎপাদনে ইউরিয়া ও ফসফেট সারে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে‘ব্র্রি অর্গানিক ফার্টিলাইজার’ এর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ধান চাষে ফসফেট সার সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া এবং ইউরিয়া সারের ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারের সার ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পাবে।