আগামী মার্চ মাস থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় বাসাবাড়ির ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে। ফলে এপ্রিল মাস থেকে নগরবাসীকে বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য ভেন্ডরদের আর কোনো টাকা দিতে হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

গতকাল সোমবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে ভেন্ডরদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় মেয়র জানান, চলতি ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ভেন্ডররা বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া অর্থ তারা মার্চ মাসে সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মার্চ থেকে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মরত প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী সরাসরি বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করবেন।

মেয়র বলেন, নগরে উৎপাদিত বর্জ্যের একটি অংশ খাল-নালায় চলে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে কয়েকটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে বেসরকারি ভেন্ডরদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন অভিযোগে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ভেন্ডররা প্রত্যাশিত মানের সেবা দিতে পারছেন না। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভেন্ডরদের মাধ্যমে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মার্চ থেকে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পুরো নগরে বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে আলাদাভাবে নাগরিকদের কোনো ফি দিতে হবে না।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যত্রতত্র ময়লা ফেললে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়। চসিকের কর্মীরা নিয়মিত বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করতে গেলে নাগরিকদের তা সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে হস্তান্তর করতে হবে। এতে ময়লা জমে থাকবে না, মশার উপদ্রব কমবে এবং নগর পরিচ্ছন্ন থাকবে।

তিনি জানান, চসিকের দুটি বর্জ্যাগারে জমা বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, গ্রিন ফুয়েল ও জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে সিটি কর্পোরেশনের আয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। শহরকে টেকসইভাবে পরিচ্ছন্ন রাখতে শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা এবং ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা।