সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, উপকূলীয় জনপদের মানুষের প্রধান সংকট এখন নিরাপত্তা ও টেকসই অবকাঠামোর অভাব। তিনি বলেন, টেকসই ও স্থায়ী ভেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার ছাড়া উপকূলের মানুষের জীবন নিরাপদ করা সম্ভব নয়। তিনি জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলের মানুষকে নিরাপদ না করলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় লক্ষ্মীখালী দাখিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
গাবুরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মজিদ, চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, মাওলানা মাহবুবুর রহমানসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষা প্রসারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করা জরুরি।
গাজী নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে গ্রামীণ অবহেলিত জনপদের রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া কৃষি, ব্যবসা ও শিল্প—কোনোটিই এগোতে পারে না।
এছাড়া তিনি সুন্দরবনকে বিশ্ব দরবারে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চিংড়ি, কাঁকড়া ও উপকূলীয় অন্যান্য শিল্পের আধুনিকায়ন ও রপ্তানিমুখী উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।
এরপর মাগরিবের পর বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায়ও বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়।
দ্বিতীয় জনসভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় শ্যামনগরের উন্নয়নের জন্য আবেগ নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি। তারা বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও উপকূলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এ অঞ্চলের মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।
আজকের দুইটি জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্যামনগরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা আরও স্পষ্টভাবে উপকূলের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।