গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আর্থিক সহায়তা, মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি, প্রতিবন্ধী ভাতা ও বীমা সুবিধার চেক বিতরণ এবং প্রবাসী বিনিয়োগ উৎসাহ ও রেমিট্যান্সের সর্বোত্তম ব্যবহার, প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তা ও অংশীজনদের নিয়ে জ্ঞান-বিনিময় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রবাসী বিনিয়োগ প্রকল্প (পিএমইউ), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও জেলা প্রশাসন, গাজীপুর যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রবাসীদের কল্যাণ ও দেশে তাদের অবদানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

তিনি তার বক্তৃতায় বলেন— প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি। তাদের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন, পরিবারিক সুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। রেমিট্যান্সকে দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগে রূপান্তর করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বিনিয়োগ প্রকল্প প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের আর্থিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলম হোসেন।

তিনি বলেন—প্রবাসীরা জাতির এক অমূল্য সম্পদ। তাঁদের পরিশ্রমে দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

ডিসি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি উদ্যোগগুলো যাতে প্রবাসী পরিবারগুলো সত্যিকারভাবে উপকৃত হয়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন কঠোরভাবে নজরদারি করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— জেলা উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) আহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, এডিএম সালমা খাতুন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) মোঃ ইমরান আহমেদ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) শাহরিয়ার নজির,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ) তানিয়া তাবাসসুম প্রমুখ।

বক্তারা প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের নানা পদক্ষেপ, আধুনিক সেবা এবং আর্থিক পুনর্বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কর্মীদের পরিবারকে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা, মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, বীমা সুবিধা ও অন্যান্য ভাতার মোট ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। পরিবারগুলোর হাতে চেক পৌঁছে দেওয়ার মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।