গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। গতকাল বুধবার সকালে গাজীপুর নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নগর ভবনে পৌঁছালে নতুন প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান। এ সময় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত প্রশাসক করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শওকত হোসেন সরকার বলেন, গাজীপুর একটি শিল্পনগরী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। এই নগরীর যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং গাজীপুরকে ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করা হবে। পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান উন্নত করা হবে এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান বলেন, নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শওকত হোসেন সরকারকে গাজীপুর সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি কাশিমপুর ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে গাজীপুর মহানগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে এবং নগরবাসী আরও উন্নত সেবা পাবে।
অবৈধ সম্পদের মামলায় যুবলীগের সম্রাটের
২০ বছরের কারাদ-
হ স্টাফ রিপোর্টার
অবৈধ সম্পদের মামলার যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় ২০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন গতকাল বুধবার এ রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদ-ের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদ-, অর্থদ- অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদ-, ১০ লাখ টাকা অর্থদ-, অর্থদ- অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে। তার অর্জিত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই ধারার সাজা একটির পর একটি চলবে জানিয়ে জাহিদুল ফকির বলেছেন এ ক্ষেত্রে তাকে (সম্রাট) ২০ বছরের কারাভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করেছেন বিচারক। সম্রাট পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। দুদকের এ কর্মকর্তাই মামলাটি তদন্ত করেন। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এর আগে ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সম্রাট আত্মগোপন করেন। এরপর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করে র্যাব।