নুরুল আজিম ইমতিয়াজ, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: সমুদ্রের কোল ঘেঁষে অবস্থিত লালজীবন গ্রামটি লবণ আর মাছ চাষের জন্য বিখ্যাত। গ্রামটিকে ভাগ করে দিয়েছে ছোট্ট একটি খাল। দেশের খাদ্য আর অর্থনীতিতে প্রভাব রাখলেও লালজীবন আর সরলিয়া ঘোনা দুই পারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে। অন্য কোন উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে সাঁকোতেই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় গ্রামের ৫ (পাঁচ) হাজার বাসিন্দাদের। বাঁশের সাঁকোটিই লালজীবন আর সরলিয়া ঘোনা গ্রামবাসীর পারাপারের একমাত্র ভরসা।
জানা যায়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়ন এবং পুইছড়ি ইউনিয়নের দু’পারের মানুষকে এক করেছে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। দেশ উন্নয়নশীল হলেও অর্ধশত বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি গ্রাম দু’টি । এই সংযোগ সাকোঁর জন্য পিছিয়ে আছে গ্রাম ও সেখানকার সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থা। এতে বর্ষার সময়ে সাঁকো দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণকে।
তবে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিয়েই প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকো পার হয়ে সরলিয়া বাজার, লালজীবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাস্টার নজির আহমেদ সরকারি কলেজ, পুঁইছড়ি ইজ্জতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আম্বিয়া খাতুন মহিলা দাখিল মাদরাসা, নাপোড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় লবণ চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানের সাঁকোটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, ব্রীজ নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা, ও বিয়ে-শাদী এবং কৃষি ক্ষেত্রেও গ্রামের লোকজনকে নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এ নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে বর্ষাকালে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, হাটবাজারের লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। তবে এখানে একটি ব্রীজ নির্মিত হলে এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
শেখেরখীল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, এই সাঁকো দিয়ে বর্ষাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামবাসী চলাচল করছেন। গত বছর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছি। এখানে একটি ব্রীজ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হলে গ্রামবাসীর দীর্ঘ দিনের দুঃখ লাঘব হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।