গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ জেলা। এই জেলাটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। ১৩ টি উপজেলা নিয়ে এই জেলাটি গঠিত। ৫ ই আগস্ট ২৪ এর পর থেকে আওয়ামীলীগের সকল নেতা এবং কিছু কিছু কর্মী বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। বতমানে পুরো জেলায় রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র–জনতার গন অভ্যুত্থানের পর সাড়া জেলায় এখন আওয়ামী লীগের কোনো কার্যালয়ই নেই।।কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নেতারা সবাই আত্মগোপনে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি সহ অন্যান্য দলে যোগদান করে মামলা হামলা থেকে বাঁচার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। কোন কোন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী অর্থের বিনিময়ে অন্য দলের পদ পদবীতে স্থান করে নিচ্ছে । অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ৫ ই আগস্ট ২৪ শেখ হাসিনার পতনের পর তাদের মুখোশ পাল্টে ফেলেছে। ঐ সকল নেতাকর্মীদের ভাবখানা দেখলে মনে হয় তারা জীবনে কোনদিন আওয়ামী লীগ করে নাই কিংবা আওয়ামী লীগ সমর্থন করে নাই। একটি সূত্র দাবি করেছে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে অন্য দলের কমিটিতে স্থান করে নেওয়ার ও খবর পাওয়া যাচ্ছে। ওই সকল নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের বদনাম বলতেও এখন দ্বিধাবোধ করছেন না।
তারা সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ এই স্লোগানের ভিত্তিতে অন্য দলে জায়গা করে নেওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিছু কিছু নেতাকর্মী এখনো নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের পক্ষে ফেসবুকের মাধ্যমে কিংবা দেয়াল লিখন এর মাধ্যমে অথবা জয় বাংলা স্লোগান দেয়ালে লিখে ও মিছিল করে তাদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করছে। জেলার যে সকল গণমাধ্যম কর্মী আওয়ামী লীগের ধূসর হিসেবে কাজ করতো তারা এখন আর আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেনা। ঐ সকল গণমাধ্যম কর্মীরাও মুখোশ পাল্টে ফেলেছে।জেলার বেশ কিছু গণমাধ্যম কর্মী গত ১৭ বছরে বৈধ অবৈধ ইনকাম করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে।
এ জেলায় গণমাধ্যমে থেকে যারা অপকর্ম করেছে তারা এখন সক্রিয় রাজনৈতিক দল গুলোর সাথে লিয়াজু করে চলছে। বলা তো যায় না কখন কোন দল ক্ষমতায় চলে আসে। আওয়ামী লীগের মিত্রদল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মী অন্যান্য দলে স্থান করে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এই জাতীয় পার্টি দলটিকে এ জেলার ভোটাররা স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সহযোগী দল হিসেবেই মনে করেন।কেউ কেউ জাতীয় পার্টি কে শেখ হাসিনার গৃহপালিত দল হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। সারা জেলায় এদের কোন প্রকার রাজনৈতিক তৎপরতা বর্তমানে নেই।
এদিকে একেবারে বিপরীত চিত্র বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর। এই দুই দলের কার্যালয় সরগরম, বেড়েছে নেতা–কর্মীদের নিয়মিত আনাগোনা। ৫ই আগস্টের পর ১৫ বছর বন্ধ থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয় সহ জেলার ১৩ উপজেলার সকল কার্যালয় খোলা হয়েছে এবং নতুন শাখা করে নতুন নতুন কার্যালয় খোলা হচ্ছে। রাজনীতির ময়দানে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি জেলা ও উপজেলাতে এখানো হয়নি। গত ২৬ শে জুলাই ২৫ জাতীয় নাগরিক পার্টি কিশোরগঞ্জ শহরের পুরান থানায় রাত আটটায় বিশাল সমাবেশ ও পদযাত্রা করেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি, দলের সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছিলেন কিশোরগঞ্জের নেতারা। জেলা আওয়ামী লীগের সব নেতারা এখন আত্মগোপনে। জেলা শহরে দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে থাকা কার্যালয় গুলোর বেহাল অবস্থা। কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্য নিকলী বাজিতপুর আসনের জুতা ব্যবসায়ী আফজল হোসেন ও কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া আসনের সোহরাব হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি তিনজন সংসদ সদস্য আত্মগোপনে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল-করিমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক (চুন্নু) কোণঠাসা অবস্থায় আছেন।
এলাকায় আওয়ামী লীগের দালাল হিসেবে পরিচিত। জেলার মিঠামইন উপজেলার বাসিন্দা সাবেক রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগ করা নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চললেও অবশেষে তিনি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় এ ছিল নীরবতা। নেতা–কর্মীরা ভয়ে সেখানে বসতে পারতেন না। একই অবস্থা ছিল জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের। এখন এই দল দুটির কার্যালয় সব সময়ই খোলা ও জমজমাট। নেতা-কর্মীদের পদচারণে মুখর থাকে দলীয় কার্যালয় গুলো। নেতা-কর্মীরাও ফুরফরে মেজাজে আছেন। দলীয় প্রার্থীদের জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন। বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী নানা ঝামেলা এড়াতে দলের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকতেন, তাঁরা এখন কোনো কর্মসূচি হলে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। এদিকে একুশ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে গত ৩১ মে ২০২৫ কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে এক বিশাল কর্মী সম্মেলন করে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন । এছাড়াও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সকল কার্যক্রম নিয়মিত সারা জেলায় পরিচালিত করছে দলটি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সরব। দলের নিবন্ধন এবং গত ২৪ জুন ২০২৫ দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে পাওয়ায় আর জামায়াত নেতা এ টি এম আজহার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলায় এনসিপির কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো হয়নি। যাঁরা জাতীয় নাগরিক কমিটিতে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে এনসিপির ব্যানারে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও গণসংযোগ এবং নানা সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কমিটি করার পাশাপাশি গণসংযোগ, সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। বাম দলের কর্মসূচি অনেকটাই কার্যালয় কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলার রাজনীতির দৃশ্যপট পুরোটাই পাল্টে গেছে। এখন জেলার রাজনীতির মাঠে বিএনপি আর জামায়াত বেশ সক্রিয়। দল দুটি সংগঠনকে গোছানোর পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠ গোছাচ্ছে। প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে এখন বেশ সক্রিয়। সুযোগ পেলেই জনসংযোগের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৩০০ সংসদীয় আসনে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে তাদের প্রার্থীর নামের তালিকা ঘোষণা করেছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ সংসদীয় আসনে তাহাদের প্রার্থীদের নাম কিছু আসনে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩০০ আসনে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা না করলেও কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ আসনে৷ নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছয়টি আসনে ছয়জন প্রার্থী দীর্ঘদিন যাবত নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী আসনে গণসংযোগ সহ নানা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলায় ছয়টি সংসদীয় আসন হলো কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর), কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া), কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল), কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম), কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর)।
উল্লেখ্য ২০০৮ সালের আগে কিশোরগঞ্জ জেলায় সংসদীয় আসন ছিল ৭টি। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জেলার ১টি আসন কমিয়ে ঢাকায় একটি আসন বৃদ্ধি করেন ।
কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ- হোসেনপুর ১৬২) আসনটি ১৯৯১ সালে বিএনপির দখলে ছিল। চার দলীয় জোট থেকে মাওলানা আতাউর রহমান খান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন । এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে এখানে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি মারা গেলে এখানে সংসদ সদস্য হন তাঁর ছোট বোন চিকিৎসক জাকিয়া নূর (লিপি)।
এ আসনে সম্প্রতি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কিশোরগঞ্জ জেলার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জনাব মাজহারুল ইসলাম। এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করার জন্য সর্বাত্মক মিটিং মিছিল এবং সমাবেশ করছে এবং কেন্দ্রে লবিং করছেন বলে জানা গেছে। এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোসাদ্দেক ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ সভা সমাবেশ উঠান বৈঠক করে চলছেন এবং দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হলেন গণধিকার পরিষদের উচ্চতর সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক মোঃ আবু হানিফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি প্রফেসর হাফেজ মাওলানা আজিজুর রহমান জার্মানি, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদি - পাকুন্দিয়া ১৬৩) এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি এডভোকেট জালাল উদ্দীন । এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা জনাব জালালউদ্দীনের মনোনয়ন বাতিলের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মিটিং মিছিল অব্যাহত আছে। এই আসনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন বিএনপি থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার আপন ভাই আনিসুজ্জামান খোকনও এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ ছাড়া এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে জনসংযোগ করছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ছাত্রনেতা,কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, তিনি নিয়মিত নির্বাচনী গণ সংযোগ সভা সমাবেশ ও মিছিল মিটিং চালিয়ে যাচ্ছেন। গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হলেন গণধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম। এই আসনে এন সি পি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সাঈদ উজ্জল প্রমূখ।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ- তাড়াইল ১৬৪) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বেকায়দায় আছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এম ওসমান ফারুক। তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন । এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট, ইবনে সিনা ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, বিশিষ্ট চিকিৎসক কর্নেল (অব.) অধ্যাপক জেহাদ খানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যেই তার নিজ আসনে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা সভা সমাবেশ উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে। এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মোঃ খায়রুল কবির।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা- মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ১৬৫)এ আসন থেকে টানা বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২০১৩ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে পরপর চারবার সংসদ সদস্য হন তাঁর বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। ৫ আগস্টের পর থেকে রেজওয়ান আত্মগোপনে আছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা জনাব ফজলুর রহমানের মনোনয়ন বাতিলের জন্য মিটিং মিছিল সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে বলে জানা গেছে। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ফরহাদ আহমেদ কাঞ্চন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা বিশিষ্ট আইনজীবী শেখ মো. রুকন রেজার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবং তিনি নিয়মিত নির্বাচনী গণসংযোগ ও সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ ইসলামী আইনজীবী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ বিল্লাল আহমেদ মজুমদার,
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী- বাজিতপুর ১৬৬) এই আসনটি ২০০৮ সাল পর্যন্ত ছিল বিএনপির দুর্গ। ২০০৮ সালে নির্বাচনে এই আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে, ১৯৮৬ সালে এই আসনে মুসলিম লীগ বিজয়ী হয়।১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এই আসনে নির্বাচন করে বিএনপি'র প্রার্থীর কাছে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়।
এ আসনে বিএনপি'র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।ইতিমধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিতরা ইকবালের মনোনয়নকে বাতিল করার জন্য মিটিং মিছিল করছে এবং দলের হাই কমান্ডের সাথে সর্বাত্মক যোগাযোগ এবং বাতিলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আমির উদ্দিন আহমেদ। দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক মজিবুর রহমান মঞ্জু।
এ ছাড়া রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে দলটি। তিনি নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপকভাবে গণ সংযোগ ও সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ (কুলিয়ারচর- ভৈরব ১৬৭) আসন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। তিনি এ আসন থেকে কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এডভোকেট জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁর ছেলে বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংসদ সদস্য হন। তিনি বতমানে আত্মগোপনে আছেন। এ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. শরীফুল আলম। বিএনপি থেকে এই আসনে ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ডাক্তার আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন ভৈরব উপজেলা বর্তমান আমির সাবেক শিবির নেতা মাওলানা কবির হোসাইন। জামায়াত প্রার্থী নিয়মিত নির্বাচনী গণসংযোগ ও সভা সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করে চলছেন।
এদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দলদুটি সারা জেলায় তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির সারা জেলায় কোন রাজনৈতিক তৎপরতা নেই। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও জেলার বিভিন্ন আসনে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভোটারদের সাথে এই প্রতিবেদক কথা বলেছেন ভোটাররা জানিয়েছেন এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের। এই আসনের বিএনপি'র কিছু কিছু প্রার্থীর ব্যাপারে বিতর্ক থাকলেও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীদের ব্যাপারে কোন বিতর্ক নেই বলে ভোটাররা জানান। অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীরা এই আসন গুলোতে বিজয়ী হবে বলে সচেতন মহল এবং ভোটাররা অভিমত ব্যক্ত করেন।