সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের আওতাধীন আলীবান্দায় নির্মিত ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রটির সুরক্ষিত বেষ্টনী এলাকায় পাঁচটি মায়াবি চিত্রল হরিণ অবমুক্ত করা হয়, যা পর্যটকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রটি বনবিভাগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ও নিবিড়ভাবে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন উঁচু ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ঘন বন, নদী এবং বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সহজেই দেখা যায়। এছাড়া, প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কংক্রিটের ফুটট্রেইল তৈরি করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা বনজ পরিবেশের অভিজ্ঞতা আরও কাছ থেকে উপভোগ করতে পারেন। হরিণের অভাবে কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছিল না, ফলে এবার অবমুক্তির মধ্য দিয়ে সব সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো।

তবে আলীবান্দায় যাতায়াতে জনপ্রতি ৩০০ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করায় পর্যটকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক পর্যটক মনে করেন, করমজল ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের মতো এখানে রাজস্ব ৪০ টাকা হলে ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী হতো। এ বিষয়ে তারা বনবিভাগের কাছে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, শুক্রবার হরিণ অবমুক্তির মাধ্যমে আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র সম্পূর্ণরূপে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব কাঠামো নিয়ে পর্যটকদের মতামত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রেরণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।