বোদা (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা : পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের কাজিপাড়া এলাকার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম ফজলে রাব্বির। সাকোয়া জামিলাতুন নেছা ফাজিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্র দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখত। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আজ তাকে শয্যাশায়ী করেছে। ভাঙা মেরুদ- নিয়ে এখন সে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। রাব্বির বাবা সাইফুল আলম একজন দিনমজুর। তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তাদের সংসার কোনোরকমে চলে। অনেক কষ্টে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ফলে সাইফুল আলমের রোজগারের প্রায় সবটাই চলে যায় স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসার খরচে। তাদের বসতঘর বলতে একটি জীর্ণ টিনের ঘর। এক পাশে টিনের বেড়া, অন্য পাশে বাঁশের। শীতের রাতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ে হিমেল বাতাস। বর্ষায় চালের ছিদ্র দিয়ে ঘরের ভেতর বৃষ্টির পানি পড়ে। একটি ঘরেই আছে তিনটি বিছানা একটিতে রাব্বি, অন্যটিতে বাবা-মা। চলতি বছরে রাব্বির বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। তিনটি পরীক্ষায় অংশ নিলেও, পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় তার পড়াশোনায় বাধা আসে। সংসারের হাল ধরতে সে কাজ নেয় ধান মাড়াই মেশিনে। কিন্তু সেই কাজই হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদ। ধান মাড়াই মেশিন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার সময় হঠাৎ গাড়িটি উল্টে যায়। রাব্বি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকরা দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, রাব্বির মেরুদ- ভেঙে গেছে। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্থোপেডিক বা পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা দিনমজুর সাইফুল আলমের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। ফলে চিকিৎসার অভাবে রাব্বির দিন কাটছে বিছানায় শুয়ে। উঠে দাঁড়াতে না পারলেও পড়াশোনার স্বপ্ন তাকে ছাড়েনি। শুয়েই সে বই হাতে নেয়। রাব্বির স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেওয়া। আজ সেই স্বপ্ন যেন থমকে গেছে। এমন অবস্থায় রাব্বির পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা বাংলাদেশ সরকারসহ সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।