আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান থানা এলাকায় পৃথক অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ২৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সিরিজ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মূল হোতা মনির হোসেনকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহেদ গ্রেফতার : শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ সরফভাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো.জাহেদ (৩৭) নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। সে ওই এলাকার মৃত আবদুস শহীদের পুত্র। গ্রেফতারের পর তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, ৯টি কার্তুজ এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাহেদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত।

পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন জানান, “সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান কঠোর। জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।”

বিমানবন্দর থেকে এ.কে ৪৭ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার : এদিকে রাউজান থানা পুলিশের একটি চৌকস দল শুক্রবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. আব্বাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে। সে দীর্ঘদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে আত্মগোপনে ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্বাসের হেফাজত থেকে পূর্বে একটি এ.কে ৪৭ রাইফেল, ১০৫ রাউন্ড গুলি ও ১০টি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছিল। অস্ত্র মামলায় ২৫ বছরের সাজা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়ার মোহরম হত্যা মামলাসহ মোট ৪টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিসংযোগের মূল হোতা মনির গ্রেফতার : এর আগে গত ২ জানুয়ারি জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাঙ্গামাটির কলেজ গেট এলাকা থেকে মো: মনির হোসেন (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় গভীর রাতে বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক ব্যানার টাঙানোর অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মনির এই পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও চুরি ও মাদকসহ ৪টি মামলা রয়েছে। পুলিশ তার কাছ থেকে অগ্নিসংযোগে ব্যবহৃত ব্যানারের সাদৃশ্যপূর্ণ আলামত উদ্ধার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে আব্বাস ও মনিরকে ইতোমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জাহেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।