ভরা শীতের মধ্যেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে খুলনাঞ্চলের মানুষ। দফায় দফায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে ডুবে থাকছে নগরীসহ আশপাশের এলাকা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকরা। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খুলনাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎসরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত ও অনির্ধারিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে জ্বালানি তেলচালিত অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ কয়লা ও গ্যাসচালিত তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিল্পকারখানা মালিকরা।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় বাজারে পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কারখানার পক্ষে উৎপাদন চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নগরীর বাসিন্দা শাওন অভিযোগ করেন, শীতের রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে।

পাশাপাশি পানির সংকট, মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যাসহ দৈনন্দিন জীবনে নানা ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা।

ওজোপাডিকোর ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মুর্শিদ আলম বলেন, গ্যাস আমদানি জটিলতার কারণে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি সঠিক মাত্রার বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। যার ফলে লোডশেডিং বাড়ছে।