ঢাকা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে ষড়যন্ত্র ও বৈষম্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেলের উদ্যোগে গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা বার ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, আইনজীবীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। ল’ইয়ার্স কাউন্সিল কোনো অন্যায়, অনিয়ম ও বৈষম্য হতে দেবে না, মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অতীতে যেই নিয়ম ও রেওয়াজ মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের নির্বাচনে সেই নিয়ম ও রেওয়াজ ভঙ্গ হচ্ছে। নির্বাচনে যাতে সাধারণ আইনজীবীগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য অবশ্যই কমিশনের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ঐতিহ্য নিয়ম ও রেওয়াজ হচ্ছে দুটি প্যানেলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। নির্বাচনের জন্য সকলের মতামতের ভিত্তিতে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনীত হয় এবং উভয় প্যানেল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য (৫জন ৫জন করে) দ্বারা ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কমিশনার হিসেবে ১০০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ২০২৬/২৭ কার্যকরী বর্ষের নির্বাচনের জন্য বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে ৭ জন এবং বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেল থেকে ৩ জন সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। যা অতীতের সকল নিয়মনীতি ও রেওয়াজ ভঙ্গ এবং পুরোপুরি বৈষম্য। অপরদিকে ১০০ সদস্যের সহায়ক কমিশনের মধ্যে ৭০ জন নীল প্যানেল থেকে এবং ৩০ জন সবুজ প্যানেল থেকে নিয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছে। যা নির্বাচনের আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই ধারা বজায় রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ঐ নির্বাচন সাধারণ আইনজীবীদের কাছে একটি বিতর্কিত ও প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে। গঠিত নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিয়ে উভয় প্যানেল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের তিনি দাবি জানান।

আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বারের কাছে আবেদন জানিয়েছি যাতে কমিশন সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। কিন্তু আমাদের লিখিত এবং মৌখিক আবেদন উপেক্ষা করে পক্ষপাতিত্ব ও দলীয় লেজুবৃত্তিক ব্যক্তিদের দিয়ে কমিশন গঠন করা হয়েছে। ফলে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন হলে সেটি প্রশ্নবৃদ্ধ নির্বাচন হতে পারে।

অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট ডক্টর হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেলের নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি সদস্য সচিব এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মো. লুৎফুর রহমান আজাদ, সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক, ট্রেজারার পদপ্রার্থী মো. আজমত হোসেন, সিনিয়র সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো. শাহীন আখতার, সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরী সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো. শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সেক্রেটারি পদপ্রার্থী বিলকিস আক্তার, অফিস সেক্রেটারি পদপ্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী বাবুল আখতার বাবু, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্যানেলের সকল পদের সদস্যবৃন্দ।