কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের করা দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।

মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের করা আবেদনের শুনানি শেষে মামলাটি বাতিল করে বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।

আদালতে মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন ও আইনজীবী খন্দকার মারুফ হোসেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।

২০০৮ সালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন ও আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

একই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল দুদক।

এ মামলায় ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারিক আদালত জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর বাইরে মারা যাওয়ায় মামলা থেকে আরও কয়েকজন অব্যাহতি পান।

রায়ের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বি এম আলতাফ বলেন, মামলায় মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। মামলার প্রধান আসামিরা ইতিমধ্যে অব্যাহতি পেয়েছেন। প্রধান আসামিদের অব্যাহতির পর সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা চলতে পারে না। হাইকোর্ট মোয়াজ্জেম হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তাঁর ক্ষেত্রে মামলাটির কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে ২০২৫ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে একই বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। রুলে মামলাটির কার্যক্রম কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। বুধবার রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।