ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক ও বহিষ্কৃত কর্মকর্তা মো. আফজাল নাছেরের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর মিরপুর থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গতকাল সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত আসামির রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এরআগে রোববার গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির পেছনে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মো. আফজাল নাছেরের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। আদালতে আফজাল নাছেরের রিমান্ড শুনানিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আদালতে মামলার শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, অতীতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেখানে আসামির সম্পৃক্ততা ছিল। আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একাধিক মামলায় হয়রানি এবং তার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির পেছনেও এই আসামির ভূমিকা ছিল। এমনকি ডিজিএফআই থেকে বহিষ্কারের পরও তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছেন। এসব কারণে তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আদালতে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন যে মামলায় তার মক্কেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। শুধু নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি আসামি ক্ষমতাসীনদের সহযোগী হতেন, তবে ২০০৮ সালে তাকে কেন বহিষ্কার করা হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বরের ফলপট্টিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা। এসময় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ৫০০ থেকে ৭০০ ব্যক্তি দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন (৪০) গুলিতে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তিনি মারা যান। ঘটনার প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, আফজাল নাছেরের পরোক্ষ নির্দেশনায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল।