ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলায় গ্রেফতার সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তারা জবানবন্দী দিতে সম্মত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম তা রেকর্ড করেন। এরপর সঞ্জয় ও ফয়সালের সঙ্গে আরেক আসামী সিবিউন দিউকেও কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান জানিয়েছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় হামলার শিকার হন হাদী। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদীকে গুলী করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলীটি লাগে হাদীর মাথায়। সাত দিন পর গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদীকে গুলীর ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত থেকে সঞ্জয় চিসিম ও সিবিউন দিউকে গ্রেফতার করা হয়। আর গত ১৬ ডিসেম্বর র্যাব-১১ এর একটি দল নরসিংদী সদর মডেল থানা এলাকার তরুয়ার বিলে অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে গ্রেফতার করে। এ সময় পানি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলী উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করেন। সঞ্জয় ও ফয়সাল স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং সিবিউনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এরপর দুজনের জবানবন্দী নেয়ার পর তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
হাদী হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামীরা হলেন- ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, ভাড়ায় প্রাইভেটকার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং মো. ফয়সাল।