দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের সাথে আমার দেশ পত্রিকাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। গতকাল রোববার দুপুরে ১২টার দিকে তিনি মামলাটি করেন। অভিযুক্তরা হলেন প্রথম আলোর কলাম লেখক এ এফ এম রাশেদুল হক মল্লিক ওরফে মারুফ মল্লিক এবং বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এপোলো।
গতকাল সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে এ মামলার আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান। আদালত মাহমুদুর রহমানের জবানবন্দী রেকর্ড করে মামলাটি আদেশের জন্য অপেক্ষমান রাখেন। আমার দেশের পক্ষে সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নিজে এবং ব্যারিস্টার তানভীর আল আমিন শুনানি করেছেন। এ সময় সিএমএম আদালতের ১০ নম্বর কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বলেন, ৫০৫ ধারার মামলায় সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে আদেশ দেওয়া হবে।
পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী তানভীর আহমেদ আল আমিন বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করেছেন। মামলার আবেদনের ওপর আদেশের জন্য আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাশেদুল হক মল্লিক ওরফে মারুফ মল্লিক ও এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এপোলো নামের দুই ব্যক্তি ১৯ ডিসেম্বর তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে জনমনে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টির জন্য বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ করেন। সেই বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণার বিরুদ্ধে ঢাকার ১০ নম্বর সিএমএম আদালতে দ-বিধির ৫০০ ও ৫০৫ ধারায় মামলা করেছেন মাহমুদুর রহমান। আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তাদের জেলহাজতে রেখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে আদালতের কাছে আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান।
আদালত থেকে বেরিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, এই বক্তব্যকে আমার দেশ ও আমার বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ মনে করছি। এটি আমাকে শুধু হেয়প্রতিপন্ন নয়, বরং মব সৃষ্টির চেষ্টা; যা নিয়ে আমি শঙ্কিত। ঘটনার পর আমার পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করা হয়, সেখানে জনগণকে সংযত থেকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা রক্ষার কথা বলা হয়েছে।
গত ১৮ ডিসেম্বর শহীদ ওসমান হাদীর সিঙ্গাপুরে ইন্তিকালের খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা প্রথম আলোর সহযোগী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমা অফিস ও ডেইলি স্টারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ ইতোমধ্যে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লেখায় আমার দেশ বন্ধ করতে ফেসবুকে মিথ্যাচার
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লেখায় আমার দেশ বন্ধ করতে ফেসবুকে মিথ্যাচার করছেন ভারতীয় দালালেরা বলে মন্তব্য করেছেন পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। গতকাল সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানহানির মামলার পর মাহমুদুর রহমান এ মন্তব্য করেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, আমার দেশ গণমানুষের পত্রিকা হয়ে উঠেছে। এটা বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির কাছে পছন্দ হচ্ছে না। আপনারা জানেন যে, বিগত সরকারের সময় আমার দেশ পত্রিকার ওপরে কি পরিমান জুলুম করা হয়েছে। মহান জুলাই বিপ্লবের পর আবারো আমরা ফিরে এসেছি জনগণরে কথা বলার জন্যে। গত এক বছরে আমার দেশ পত্রিকা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। আমরা যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি প্রধানত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে এবং ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে। সেই লড়াই যারা করেছি তার মধ্যে একটা শত্রু বিতাড়িত হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের আঘাত তো এখনো চলছে বাংলাদেশে। আপনারা জানেন ভারত থোকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর চেষ্টা চলছে। সুতরাং ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের দালালেরা, তারা চাচ্ছেনা আমার দেশ পত্রিকা চলুক। কাজেই তারা আবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা আবার পত্রিকা বন্ধ করতে চাচ্ছে এবং এই কারণে এরকম একটি জঘণ্য মিথ্যাচার তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের আক্রমণের দুঃখজনক পরিস্থিতি কেন্দ্র করে, যেখানে আমার দেশ পত্রিকা চেষ্টা করেছে এর বিরুদ্ধে দাড়াতে এবং আপনারা অবগত আছেন আমি সর্বপ্রথম বক্তব্য দিয়েছি জনগণকে শান্ত থাকবার জন্যে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনূসের বক্তব্যের আগে আমার বক্তব্য মিডিয়াতে এসেছে। শুধু তাই নয়... রাতের বেলা যখন আক্রান্ত হয়েছে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার, তখন একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। তাদেরকে আমি সহায়তা দিয়েছি এবং আমি তাদেরকে বলেছি আপনারা যদি আমার জন্যে গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে আমি নিজে গিয়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মব থামানোর চেষ্টা করবো। কিন্তু সরকার গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারেন নাই। কাজেই আমি ব্যক্তিগতভাবে যেতে পারিনি। ব্যক্তিগতভাবে আমি যেতে চেয়েছিলাম সেটার কোনো অ্যাপ্রিসিয়েশন না করে উল্টো প্রথম আলোতে লেখালেখি করেন, সেরকম একজন ব্যক্তি মারুফ মল্লিক, অত্যন্ত ঘৃণ্যভাবে আমার দেশ বিরুদ্ধে তিনি বলেছেন, আমার দেশ এটার সাথে জড়িত আছে। এ ধরণের একটি ঈঙ্গিত তিনি দিয়েছেন তার পোস্টে এবং আরো একজন যিনি বাংলাদেশের একটি বৃহৎ দলের খুব প্রভাবশালী নেতা তিনি আবার সেই পোস্ট সমর্থন করে আরেকটি পোস্ট দিয়েছেন। তার অর্থ হচ্ছে তারা মিলিতভাবে আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করতে চায়। এখন এই দুই ব্যক্তির সাথে আরো লোকজন থাকতে পারে আমরা জানিনা। সরকারে দায়িত্ব খুজে বের করা। কিন্তু এই দুই জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে ৫০০, ৫০০৫ ও ১০৯ এই তিন ধারায় আমি মামলা করেছি। তিন ধারার মধ্যে ৫০০ এবং ১০৯ ধারা আদালত নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ৫০৫ ধারায় যেহেতু সরকারে অনুমোদন লাগে এজন্যে তিনি আদেশ প্রদান অপেক্ষমান রেখেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর প্রথম আলোর কলাম লেখক এএফএম রাশেদুল হক (মারুফ মল্লিক) তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রথম আলো অফিসে হামলায় আমার দেশের জড়িত থাকার সম্ভাবনা বিষয়ে পোস্ট দেন। এরপর ওই পোস্ট শেয়ার করেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান এপোলো। ঢাকার তেজগাঁও থানাধীন কারওয়ান বাজারে আমার দেশ পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে অবস্থানকালে বাদী (মাহমুদুর রহমান) আসামীদের ফেসবুক পোস্ট দুটি সম্পর্কে জানতে পেরে হতবিহ্বল হয়ে পরেন। আসামীদের এই জঘন্য মিথ্যাচারের কারণে বাদী ও তার দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি পত্রিকাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কলাকুশলী ও ব্যক্তিদের মানহানির কারণ হয়েছে এবং তাদের ব্যাপারে জনমনে শত্রুতা, ঘৃণা, অসন্তোষ ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছে।