জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছলে কারা কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তাকে মুক্তি দেন। এর আগে একই দিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিচারক জাকির হোসাইন ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানান, বিকেল ৪টার দিকে তার জামিনসংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে আসে। যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর স্বজনরা তাকে কারাগার থেকে নিয়ে যান।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক বলেন, আদালত নির্ধারিত শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন এবং শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের আইনগত অবস্থান তুলে ধরেছে। শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজিয়া কিবরিয়া বলেন, আদালত থেকে বেল বন্ড (জামিননামা) কারাগারে পৌঁছালেই তিনি জামিনে মুক্তি পাবেন। তিনি জানান, অন্য কোনো মামলায় সাবেক স্পিকারকে আটকের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তিনি ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন পেয়েছেন এবং মুক্তি পেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেবেন।
আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড আবেদন নাকচ করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা চেষ্টা ও চারটি হত্যা মামলা রয়েছে। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছিলেন, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় শিরীন শারমিনের কারামুক্তিতে বাধা নেই। এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধানমন্ডিস্থ তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওইদিনই তাকে জুলাই আন্দোলনের সময়ের রাজধানীর লালবাগ থানা এলাকায় আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।