২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামীর বিরুদ্ধে করা মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মো. আব্দুর রহমান। গণঅভ্যুত্থানের সময় লক্ষ্মীপুরে তার ছোট ছেলে ওসমান পাটোয়ারী (২২) শহীদ হন।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামীরা হলেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সব আসামীই পলাতক।

গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে জবানবন্দি পেশ করেন সাক্ষী আব্দুর রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

জবানবন্দিতে আব্দুর রহমান বলেন, তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায়। তিনি একজন পল্লীচিকিৎসক। তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে ছিল। তার ছোট ছেলে ওসমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ হন। ওসমান মৃত্যুর আগে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

আব্দুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট তিনি ঢাকায় ছিলেন। সেদিন সকালে তার ছোট ছেলে ওসমান পাটোয়ারী তাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আব্বু, আমি আজ আন্দোলনে যাবো। আমার সাথে হয়তো তোমার আর দেখা হবে না। তুমি আমাকে মাফ করে দিও।’

তিনি তখন ছোট ছেলেকে আন্দোলনে যেতে না করেন। তারপর তিনি তার স্ত্রীকে ফোন করে ওসমানকে আন্দোলনে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে কেন, তা জানতে চান।

তার স্ত্রী তখন জবাবে বলেন, ‘ওসমান আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার দুই গালে ও কপালে চুমু খেয়ে বলেছে, আম্মু তুমি আমাকে আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দিয়ে দাও, যেন আল্লাহ আজ আমাকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।’

পরে লোকজনের কাছে জানতে পারেন, লক্ষ্মীপুর পিংকি প্লাজার সামনে ওসমান গুলী খেয়ে রাস্তার ওপর পড়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা তাহেরের ছেলে সালাউদ্দিন টিপু ও তার সহযোগীরা গুলী করে তার ছেলেসহ দুজন আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে। টিপু ও তার ছোটভাই বিপ্লব, শাহীন, শিবলুসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লক্ষ্মীপুরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।

এ মামলার সাত আসামী এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীদের নির্দেশে ও উসকানিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আব্দুর রহমান।