চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি–ভূজপুর) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে আইনজীবী টিমের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ফটিকছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক ব্রিফিং উপস্থাপন করেন অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গণি।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম–২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ নুরুল আমিন কর্তৃক দায়ের করা আপিল সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করেছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী টিম জানায়, এই আদেশের ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল সরকারিভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ করা আইনত সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন আইন এবং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। জেলা নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত বিধান উপেক্ষা করে প্রভাবিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
আইনজীবী টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর নির্বাচিত হলেও তার ভোটের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা যাবে না।”
আইনজীবীরা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচন আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সব পক্ষের উচিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন,
“আমি দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়িবাসীর পাশে আছি এবং আগামীতেও থাকব, ইনশাআল্লাহ। তবে কোনো ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাত, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের রাজনীতি আর এ দেশে চলতে দেওয়া হবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের আসন পরিচালক আব্দুল জব্বার, আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গণি, অ্যাডভোকেট আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট হাবিবুল্লাহ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসন কমিটির সদস্য ও সদস্য সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য ইউসুফ বিন সিরাজ, আবু জাফর, নবীর হোসেন মাসুদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।