চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ৩৯ জন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত।
গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক এ অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ২৩ জন আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার অভিযোগ গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়েছে।
শুনানিকালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে একজন আইনজীবী এবং পলাতক ১৬ আসামীর পক্ষে পৃথক একজন আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে আটক ২২ আসামীর পক্ষে আগামী ধার্য তারিখে লিগ্যাল এইড অফিস থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আদালত জানান। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি।
মামলায় অভিযুক্ত ৩৯ জনের মধ্যে এখনো ১৬ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাশ, সনু দাশ, সকু দাশ, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাশ ও দ্বীপ দাস।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় ইসকনের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন না পাওয়ায় ইসকন সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী কর্মীরা আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে শুনানি শেষে নতুন করে আরও আসামি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত।