সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের তিনটি গাড়িসহ ৫৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদকের আবেদনে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া, ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও গাজীপুরের কালিগঞ্জের এই ৫৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমির মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭৯ টাকা। তিনটি গাড়ির মধ্যে একটির দাম সাড়ে তিন কোটি টাকা, আরেকটি ৬১ লাখ এবং অপরটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জমি ও গাড়ি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাধু উপায়ে নিজ নামে ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্ঞাতআয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনপূর্বক দখলে রাখার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা ও ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত অপরাধ দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক বলছে, মামলার তদন্ত চলছে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন। জব্দ করা না গেলে তা বিক্রি বা হস্তান্তর করা হতে পারে এবং বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আবেদনে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
পিএস শফিকুলের ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আনিসুল হকের একান্ত সচিব (পিএস) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে একই আদালত। এসব হিসাবে ৫০ লাখ ১৪ হাজার ৮১৮ টাকা রয়েছে। মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ব্যাংক হিসাব খোলার ফরমে আয় ব্যতিরেকে ভিন্ন উৎস থেকে আয়ের কোন গ্রহণযোগ্য দলিলাদি না থাকা সত্ত্বেও অত্যধিক পরিমাণ নগদ/ক্লিয়ারিং/স্থানান্তরের মাধ্যমে জমা এবং ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে স্থানান্তরের মাধ্যমে জমা সংক্রান্ত লেনদেন তার পেশা ও আয়ের উৎসের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এসব অর্থসমূহ আইন/বিধি সম্মত কোন উপায়ে অর্জিত হয়নি মর্মে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধানে ৬ সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া অপরাধলব্ধ অর্থ তার বা তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন, হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন। এ কারণে তার নামে থাকা ৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
নূর মোহাম্মদ ও স্ত্রী-ভাতিজার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম ও ভাতিজা সাইফুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল সাব্বির ফয়েজ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারি পরিচালক বিষাণ ঘোষ তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, নূর মোহাম্মদ ও তার ভাতিজা সাইফুল ইসলামসহ তাদের উপর নির্ভরশীলদের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু ও যথাযথ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
সলিম উল্লাহর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান সলিম উল্লাহর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারী পরিচালক বিষাণ ঘোষ তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। সলিম উল্লাহ পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে দেশ ছেড়ে বিদেশে পারেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে জানিয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক বিষাণ ঘোষ।