গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে জনসম্মুখে বিভিন্ন উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাসান মাহমুদরা। তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে দমনের জন্য মাঠ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের নির্দেশনা দেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলীবিদ্ধ হয়ে মালবাহী একটি ট্রাকের চালক হোসেন নিহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় তদন্তে সত্যতা পেয়ে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন পুলিশ। মামলার চার্জশিটে এসব কথা উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই আকরামুজ্জামান। গত ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানা যায়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি চলমান ছিল। মামলার ভিকটিম মো. হোসেন (২৫) একজন মালবাহী ট্রাকচালক। গত বছরের ১৯ জুলাই দেশের আন্দোলনের কারনে ঢাকার রাস্তায় কারফিউ জারি থাকায় ট্রাকটির সমস্যা হতে পারে অনুমান করে গাবতলী পার্কিং করে নিজের ভাড়া বাসায় যাচ্ছিলেন চালক হোসেন। ভিকটিম মো. হোসেন মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় হোসেন মার্কেটের সামনে গার্মেন্টস পর্যন্ত পৌঁছামাত্র কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসামীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসান মাহমুদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আসিফ আহম্মেদের নির্দেশ পালন করার নিমিত্তে বাকী আসামী এবং অজ্ঞাতনামা আসামীরা গুলি করতে থাকেন। আসামীদের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলে মো. হোসেনে, সাজ্জাদ হোসেন জিহাদ ও শাহিন গুলীবিদ্ধ হন।