ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময় সুবিধা পাওয়া চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও ৪৩১ দশমিক ৬৯ শতাংশ জমি স্থাপনাসহ জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। এস আলম নামে পরিচিত সাইফুল আলমের এসব জমি ও স্থাপনা রয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ এ তথ্য দিয়েছেন।

দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হকের করা আবেদনে অনুসন্ধানের বরাতে বলা হয়েছে, এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সত্তা ও সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামে বেনামে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন। এ অর্থে তারা নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

দুদক বলছে, এস আলম এবং তার পরিবারের সদস্যরা এসব স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে পরবর্তীতে এ টাকা উদ্ধার করা দুরূহ হয়ে পড়বে। এজন্য এস আলম, তার পরিবারের সদস্য, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সত্তা ও সত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পদ জরুরি ভিত্তিতে অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন মনে করছে সংস্থাটি।

গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, গ্রুপটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছে আদালত। এরপর ১১ ডিসেম্বর এস আলমের ৫,৮৬৮ বিঘা জমি জব্দের আদেশ দেয় আদালত। তার আগেও বিভিন্ন সময় শিল্প গ্রুপটির কর্ণধার ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েক হাজার শতাংশ জমি জব্দ এবং কয়েকটি সম্পদ ক্রোকের আদেশ আসে।

হাসিনার এপিএস লিকুর স্ত্রীর ১০ তলা ভবন জব্দের আদেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ (এপিএস) গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের বহুতল একটি ভবন জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার কেরানীগঞ্জে থাকা ১০ তলা ভবনটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ কোটি ৪৮ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৭ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

দুদকের পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. রুহুল হক ভবনটি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, রহিমা আক্তারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করার জন্য আদালতে গত বছরের ১৫ জুলাই আবেদন করা হয়। ১৬ জুলাই সম্পত্তি ক্রোক/ফ্রিজ করার আদেশ দেন। তদন্তকালে দেখা যায়, ক্রোককৃত একটি জমির উপর আসামির ১০ তলা ভবন রয়েছে। গোপন সূত্রে জানা যায়, তিনি ভবনটির মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রহিমা আক্তারের নামে অর্জিত এসব ক্রোক করা জমির উপর নির্মিত ভবনটি ক্রোক করা আবশ্যক।

গত ১৭ জুলাই রহিমা আক্তারের নামে থাকা গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া ও কেরানীগঞ্জে থাকা ৫৭ বিঘা জমি জব্দের দেয় একই আদালত। সেদিন একটি গাড়ি ও চারটি কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশও আসে।