গুলশানের একটি প্লট অবৈধভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ঘুস হিসেবে লন্ডনের ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার চার্জশিট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন। দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মুর্তজা আলী সাগর আগামী সপ্তাহেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে দুদক কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরী গুলশানে ১ বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট সরকারি ইজারায় পান। ইজারার ৯৯ বছরের মেয়াদে ওই প্লট হস্তান্তর বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। এরপরও ১৯৭৩ সালে আমমোক্তারনামা করে প্লটটি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়াকে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্লটটি খ- খ- হয়ে বিক্রি হয় এবং ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নেয়। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের বিরোধে মামলা শুরু হয়। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং হস্তান্তর নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজউকের সংশ্লিষ্ট আইন উপদেষ্টারা ইস্টার্ন হাউজিংকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অবৈধ অনুমোদন দেন। কোম্পানিটি লিজ হোল্ডার বা বৈধ প্রতিনিধি না হওয়া সত্ত্বেও ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ ও বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়। যা ইজারার শর্ত ভঙ্গ এবং অবৈধ ক্ষমতার ব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক।
দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, এই প্রক্রিয়া সুবিধাজনক করতে গিয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছ থেকে বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেন, যা অবৈধ পারিতোষিক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের আনুষ্ঠানিক পত্রেই টিউলিপ সিদ্দিকের বিনামূল্যে ফ্ল্যাট গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০১ সালের ১৯ মে থেকে টিউলিপ ফ্ল্যাটটির দখলে ছিলেন। ২০১৫-১৬ করবর্ষে ফ্ল্যাটটি (ফ্ল্যাট নং বি/২০১, প্লট নং ঘঊ(অ)-১১ই) তিনি তার ছোট বোন আজমিনা সিদ্দিককে হেবা হিসেবে দিয়েছেন বলে নথিতে প্রমাণ রয়েছে। ফ্ল্যাটটির নামজারি এখনও টিউলিপের নামে এবং হোল্ডিং ট্যাক্সও তিনি নিয়মিত পরিশোধ করেছেন। এসব অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম। তারা হলেন, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সর্দার মোশাররফ হোসেন। তবে অভিযোগপত্রে শাহ মো. খসরুজ্জামানের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত পর্যায়ে গত ১৪ মে ও ২২ জুন টিউলিপ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নোটিশ পাঠান। একই সঙ্গে অন্য দুই রাজউক কর্মকর্তাকেও তলব করা হয়।
এর আগে পূর্বাচলের ৬০ কাঠা প্লট দুর্নীতি মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের অন্যান্য সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন ও গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেন আদালত।