জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান ও সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও রাষ্ট্রনিযুক্ত ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
শুনানির শুরুতে আসামিদের অব্যাহতির জন্য দাখিল করা আবেদন খারিজ করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
যাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন গ্রেফতার আছেন এবং এখনও দুজন পলাতক। গ্রেফতার আসামিরা হলেন— বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও সংস্থাটির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম।
পলাতক দুই আসামি হলেন— ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ানুল ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসঙ্গত, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে রামপুরায় নিহত হন ২৮ জন, আহত হন আরও অনেকে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলসহ অভিযুক্তরা নেতৃত্ব দেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী চার আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন, যার ভিত্তিতে আজ বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হলো।