আদালতের আদেশ অমান্য করায় রংপুরের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাব প্রশাসক সহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তার উপর শো’কজ করেছে আদালত। গত রোববার রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক কৃষ্ণ কান্ত রায় এ আদেশ দেন।

এর আগে ৩০ অক্টোবর প্রেসক্লাবে সদস্য অন্তর্ভুক্তিতে আদালতের আদেশ অমান্য করায় প্রেসক্লাব কমিটির পক্ষে মামলা করা হয়। মামলায় প্রতিপক্ষ করা হয়েছে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও প্রেসক্লাব প্রশাসক রমিজ আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৩ কর্মকর্তাকে। সোমবার বিকেলে রংপুর আদালত চত্ত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রেসক্লাবের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবি এ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট ও এ্যাডভোকেট মাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবি হারুন অর রশিদ, মোকছেদ বাহলুল, রুবাইয়া সুলতানা পপি।

এ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট বলেন, রংপুর প্রেসক্লাবে সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আদালতে থাকা মামলার শুনানী না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবের তর্কিত প্রশাসকসহ উভয়পক্ষকে সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু জেলা জজের আদালতের আদেশকে রংপুরের ডিসি, প্রেসক্লাবের তর্কিত প্রশাসক চরম অবজ্ঞা ভরে আদালতকে অবমাননা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আইনজীবি হিসেবে আদালতের প্রতি এমন অবজ্ঞার কারনে প্রেসক্লাব কমিটির পক্ষে আমরা একটি ভায়োলেশন কেস ফাইল করেছি। বিজ্ঞ আদালত প্রতিপক্ষ ডিসি, তর্কিত প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট আদালত অবমাননার ব্যাখ্যাসহ জবাব চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর বর্তমান ডিসি মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল ২০১৪ সালে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ইউএন থাকাকালীন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রার্থী মনোরঞ্জন শীল গোপালকে বিজয়ী করতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। তিনি বর্তমানে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা সহ ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের পুনর্বাসন করতে আইন-আদালত অমান্য করছেন। আমরা আইন ভঙ্গকারী ডিসি, প্রেসক্লাবের তর্কিত প্রশাসকসহ সমাজসেবা কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবী করছি। উল্লেখ্য, প্রেসক্লাবক্লাবে সাধারণ সদস্য ভুক্তি নিয়ে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এ মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ১৪ অক্টোবর প্রেসক্লাব প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলম বির্তকিত কিছু নামধারী আত্নস্বিকৃত দুর্নীতিবাজ, নারী নির্যাতনকারী এবং প্রতারণা মামলার আসামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সাংবাদিক নিয়ে ১০৫ জনকে প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। বিতর্কিতরা এতে সদস্য হওয়ায় রংপুরের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।