ক্স ফয়সাল-আলমগীরকে দিল্লী নিয়ে গেছে এনআইএ
ক্স ১৫ দিনের মধ্যে দেশে ফেরাতে আলটিমেটাম
ক্স আমি এই কাজ করিনি: প্রধান আসামী ফয়সাল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদী হত্যার মূল আসামী ফয়সালের বক্তব্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল (৩৭) ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে (৩৫) ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে গত রোববার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার বিশেষ আদালতে তোলা হয়। এসময় ফয়সাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডে বিএনপিসহ দু’টি রাজনৈতিক দলের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদীকে ‘জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেয়ার ধৃষ্টতা দেখান।
আদালতে নেয়ার সময় সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়া ওসমান হাদী হত্যাকান্ড নিয়ে নির্দ্বিধায় এধরণের কথা বলার দুঃসাহস দেখানো নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। হাদী হত্যার পর প্রধান আসামী ফয়সাল ও আলমগীর ভারতে গ্রেফতার হওয়ার পর এ হত্যাকান্ডর রহস্য উম্মোচনের আশা করেছিল দেশের মানুষ। যেহেতে হত্যাকান্ডের পরই সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাড়ি জামানোর পর তাদের হদিস মিলছিলন না। মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী ফয়সাল ও আলমগীরের অবস্থান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আসছিল শুরু থেকেই। ইনকিলাব মঞ্চ ওসমান হাদী হত্যার রহস্য উম্মোচন ও আসামীদের গ্রেফতারে আল্টিমেটাম দিয়ে আসছিল। দেশের মানুষের দৃষ্টি ছিল চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের দিকে। এরই মাঝে ভারতে গ্রেফতারের পর রিমান্ড শেষে আসামীর বক্তব্যে হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এর জিজ্ঞাসাবাদে ওসমান হাদী কি তথ্য দিয়েছে সে বিষয়ে কোনো কিছুই স্পষ্ট করা হয়নি। রিমান্ড শেষে তাদেরকে আটকাদেশ দিয়ে আদালতে হাজির করলেও এখনো এসটিএফ এর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি কারা হত্যাকান্ডে জড়িত। জিজ্ঞাসাদে কি তথ্য দিয়েছে ফয়সাল ও আলমগীর তা গোপন রাখা হয়েছে।
ওসমান হাদীকে হত্যার উদ্দেশ্য কি? কে ইন্ধন দিয়েছে, কারা অর্থের জোগানদাতা? এসব বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মুখ না খোলা এবং পুলিশের সামনেই হত্যান্ড নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া ও প্রকাশ্যে দেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপিসহ দু’টি রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করার ঘটনা কি বার্তা দেয় তা নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে- রিমান্ড শেষে তদন্তকারীরা কোনো তথ্য প্রকাশ না করে আদালতের সামনে আসামীকে কথা বলতে দেয়ার উদ্দেশ্য কি? শুরু থেকেই ওসমান হাদী হত্যার তীর যাদের দিকে ছিল সেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের কোনো নেতার নাম একটি বারও মুখে আনেনি ফয়সাল। ওসমান হাদী বরাবরই ভারতীয় আগ্রাসন ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। সেসব বিষয়ে কোনো কথা না বলে-পশ্চিমবঙ্গ আদালতে সাংবাদিকদের পশ্নের জবাব - ‘ওসমান হাদী ‘জামায়াতের প্রোডাক্ট’ বলে মন্তব্য করায় এ হত্যাকান্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতাই প্রমাণ করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
আমি এই কাজ করিনি, প্রধান আসামী ফয়সাল: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপত্র শরিফ ওসমান হাদী হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালতে পাঠানো হয় গত রোববার। ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার বিশেষ আদালতে তোলা হয় তাদের। এ সময় হাদী হত্যা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফয়সাল বলেন, আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না। এর আগে তাকে বিধান নগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবশ্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। এর আগে চলতি মাসের ৭ তারিখ রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এরপর তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী এলাকায় এবং আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়। তাদের গ্রেফতারের পর এসটিএফ সূত্র জানিয়েছিল, ফয়সাল ও আলমগীর দুজনই হাদীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ও গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এদিকে, মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে এ দুই আসামিকে ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা করায় গত ১৩ মার্চ ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে শনিবার (২১ মার্চ) ফিলিপকে আদালতে তোলা হয়।
ফয়সাল-আলমগীরকে দিল্লী নিয়ে গেছে এনআইএ: অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে নিয়ে গেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতেই কলকাতা থেকে তাদের বিমানে করে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার তাদের এনআইএর বিশেষ আদালতে তোলা হতে পারে। এরআগে ২২ মার্চ জাতীয় তদন্ত সংস্থা-র পক্ষ থেকে কলকাতার বিধাননগর আদালত-এ দুই অভিযুক্তকে জেরা করার আবেদন জানানো হয়। বিচারক প্রথমে তাতে সম্মতি দেন। তবে ২৩ মার্চ সকালে এনআইএ ফের নতুন পিটিশন জমা দিয়ে জানায়, দমদম কেন্দ্রীয় কারাগার-এ নিরাপত্তা নিয়ে তারা আশঙ্কায় রয়েছে এবং সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় না। এরপর বিচারক অভিযুক্তদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। সেই অনুযায়ী, রাতেই তাদের দিল্লিতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার বিচারক নিশান মজুমদার ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন।
১৫ দিনের মধ্যে দেশে ফেরাতে আলটিমেটাম: শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর খুনিদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আলটিমেটাম ঘোষণা করেছে হাদীর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। রোববার মধ্যরাতে সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সই করা বিবৃতিতে ছয় দফা দাবি ফেসবুক পেজে তুলে ধরা হয়। ভারতে হাদী হত্যাকা-ের আসামিকে রিমান্ডসহ পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নীরবতায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকা-ের আসামিরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক হওয়ার পর ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে তোলা হয় এবং নতুন করে আবারো হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্কৃয়তায় আমাদের স্তম্ভিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আসামিরা ধরা পড়াকে আমরা সরকারের সাফল্য মনে করেছিলাম এবং সেভাবেই উদযাপিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের ব্যর্থতাকেই আমাদের সামনে টেনে নিয়ে এসেছে। এই অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চ জাতির সামনে নি¤েœাক্ত ৬ দফা দাবি উত্থাপন করছে:
(১). পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই মুহূর্ত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খুনিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এটি কোনো অনুরোধ নয়, জনগণের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম। (২). হত্যাকা-ের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের কুশীলবদের আড়াল করার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। (৩). আসামিরা কীভাবে এবং কাদের মদদে সীমান্ত পাড়ি দিল? গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে থাকা কোন ব্যক্তিরা জড়িত ছিল কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করে অতিদ্রুত নামগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং গ্রেপ্তার করতে হবে। (৪). ভারতে ‘ইউএপিএ’ আইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠন করতে হবে। এই সেল ভারতের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং অগ্রগতি জাতিকে অবহিত করবে। (৫). ওসমান হাদী হত্যার বিচার কোনো বদ্ধ ঘরে বা গোপন ট্রায়ালে হবে না। আমরা দাবি করছি, এটি হবে একটি ‘ওপেন ট্রায়াল সিস্টেম’, যা জাতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। জাতি এই বিচারের স্বচ্ছতা দেখতে চায়, সরাসরি দেখতে চায়। (৬). আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে, ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। রাজপথ থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠন শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস করতে জানে না।
দেশে ফেরাতে ‘যোগাযোগ চলছে’, ডিবি: ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদী হত্যা মামলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে এমনটিই জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ডিবিপ্রধান বলেন, এটি বহুবার বলেছি যে, মামলাটি এখন সিআইডির কাছে আছে। সিআইডি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসামিদের ফেরানোর বিষয়ে যোগাযোগ করছে।
কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে ঢাকা: শরিফ ওসমান হাদী হত্যার অভিযোগে ভারতে গ্রেফতার তিন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দিল্লির কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গত ১৬ মার্চ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কলকাতার সঙ্গে সরকার যোগাযোগ রাখছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের কনস্যুলার অ্যাকসেস পেতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। প্রথমে দুজন গ্রেফতারের পর কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়েছে। পরে আরও একজন গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর ক্ষেত্রেও একই অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে। আশা করা হচ্ছে, ভারত এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে। কনস্যুলার অ্যাকসেস পাওয়ার বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদীর মাথায় গুলী করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৯ ডিসেম্বর হাদীর লাশ দেশে আনা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদীকে দাফন করা হয়।