সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে জারি করা হুলিয়া ও ক্রোকী পরোয়ানা আদালতে ফেরত না আসায় পুনরায় পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর ছিদ্দিক। সোমবার এ নির্দেশ দেন আদালত। পলাতক দুই আসামী হলেন-শুভ কান্তি দাস ও সুকান্ত দত্ত।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, মামলার চার্জশিটভুক্ত মোট ৩৯ আসামীর মধ্যে এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক ১৮ জনের বিরুদ্ধে পূর্বে জারি করা হুলিয়া ও ক্রোকী পরোয়ানার মধ্যে ১৬টি পরোয়ানা যথাসময়ে আদালতে ফেরত এলেও বাকি দুই আসামীর পরোয়ানা ফেরত না আসায় পুনরায় জারির নির্দেশ দেন আদালত।
চার্জশিটে নাম রয়েছে-চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাস, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তদন্তে এজাহারনামীয় গগন দাস, বিশাল দাস ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়। অন্যদিকে নতুনভাবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ আরও ১০ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে মোট ৩৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের ১ জুন তৎকালীন কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন।
গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে ৩৯ আসামীর বিরুদ্ধেই চার্জশিট গ্রহণ করেন।