বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার শুনানি নিয়ে গতকাল শনিবার ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের এসআই শরীফুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান। আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তকালে আসামির ব্যবহৃত মোবাইল, সিপিইউ ও আই ম্যাক জব্দ করা হয়েছে। যা আইটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনের বিপক্ষে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে তিনি আন্দোলন বিরোধী অবস্থান নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার বিশেষ প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভানাসহ মামলার তদন্তকাজে বিঘœতার সৃষ্টি হতে পারে।
তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে তার আইনজীবী মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে তৌহিদ আফ্রিদিকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়। শুনানির সময়ে তাকে এজলাসে তোলা হয়।
গত ২৫ অগাস্টে আফ্রিদিকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত। এর আগের রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সদস্যরা। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ অগাস্টে যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ অগাস্টে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আসামির তালিকায় বাবা-ছেলে নাসির উদ্দিন ও তৌহিদ আফ্রিদির নামও রয়েছে।