জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি আগামী ২০ জানুয়ারি।

গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী।

এর আগে ১৫ ডিসেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) আপিল করে। আপিলে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে।

আপিল দায়েরের পরে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেছিলেন, মোট ৮ যুক্তিতে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করা হয়েছে।

গত ১৭ নভেম্বর একটি অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আরেকটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেছেন।

পলক ও জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ২১ জানুয়ারি : ইন্টারনেট বন্ধ করে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জুনাইদ আহমেদ পলক ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ২১ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামীপক্ষের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এর আগে, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের শুনানির পর আসামীপক্ষের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন শুনানির জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য রাখা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হঠাৎ হঠাৎ বন্ধ করা হতো ইন্টারনেট সেবা। ১৭ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ছিল মোবাইল ইন্টারনেট। এ ছাড়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপসহ ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ ছিল ১৩ দিন; যা স্বাভাবিক হয় ৫ আগস্ট দুপুর থেকে। যার ফলে সাধারণ মানুষ এবং আন্দোলনকারীরা যোগাযোগে অসুবিধায় পড়ে। মূলত, এটি ছিল একটি উদ্দেশ্যমূলক পদক্ষেপ।