জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে ‘গণহত্যা আড়াল ও সহায়তা’ করার অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ পরোয়ানা দেন।
ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্তে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করাতে তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আদালত আওয়ামী লীগের তিন সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে।
পলক, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ-জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে পরিকল্পনা, প্ররোচনা ও সহায়তা।
একদিন আগে, ৩ ডিসেম্বর, সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে বলা হয়- জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা ও সারাদেশে চলমান দমন-পীড়ন, গুলি ও গণহত্যার প্রকৃত তথ্য যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকাশ না পায়।
জিজ্ঞাসাবাদে পলক স্বীকার করেছেন- ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল ‘গণহত্যা আড়াল করার কৌশল।’ বিদেশে মিডিয়া ও কূটনৈতিক মহলে ভুল তথ্য পাঠাতে একটি সমন্বিত সাইবার অপারেশন পরিচালনারও অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশন বলছে, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার ফলে হাজারো মানুষের জীবনহানি, নিখোঁজ ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর লুকিয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যাকে সহায়তার শামিল।
ট্রাইব্যুনাল বলেছে, অভিযোগগুলো প্রাথমিক তদন্তে যৌক্তিক বলে মনে হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা বিচারিক যাচাইয়ের জন্য আদালতে হাজির করা জরুরি।
আদালত আরও উল্লেখ করে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার অভিযোগে যেসব ব্যক্তি পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ডিসেম্বর। ওই দিন আদালত অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত বলেন, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি বৃহৎ মামলা, তাই বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।