রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলী করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামীর সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিউশন।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। আসামীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশনের পক্ষে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে সারাদেশের মতো রামপুরায়ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিরস্ত্র আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলী চালানো হয়, যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধ। এছাড়া আরও দুজনকে শহীদ করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এসব হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে এ মামলার পাঁচ আসামীর সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অতএব সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার প্রার্থনা করছি।
এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। হাবিবুর ছাড়া পলাতক অন্য আসামীরা হলেন- খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলী ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবন বাঁচলেও গুরুতর আহত হন তিনি। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলীতে শহীদ হন নাদিম ও মায়া ইসলাম।
জঙ্গি সাজিয়ে ৯ তরুণ হত্যা
হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের
বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল
রাজধানীর মিরপুরের জাহাজবাড়িতে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
অন্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামী হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান, এসবিপ্রধান মনিরুল ইসলাম ও ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি বাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্ট্রম-২৬’ নামের ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলী করে হত্যা করা হয়।
চানখারপুলের হত্যা মামলা
৫ আসামীর সাজা বৃদ্ধির
আপিল করল প্রসিকিউশন
চানখারপুলের হত্যা মামলার ৫ আসামীর সাজা বৃদ্ধির জন্য আপিল করেছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদ- দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন- ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সবাই পলাতক রয়েছেন। মৃত্যুদ-প্রাপ্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে মামলায় অন্য আসামীর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়েছে। রমনা জোনের সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর, কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদ- দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক রয়েছেন।