সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, তিনি সেনাপ্রধান থাকাকালীন কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছিল। তবে বিষয়টি তার এখতিয়ারের বাইরে থাকায় তিনি এ বিষয়ে কোনো তদন্ত করেননি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে জেরার মুখে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জেরা সম্পন্ন হয়। গুম ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানের মামলায় এটি ছিল সাবেক সেনাপ্রধানের চতুর্থ দিনের জেরা। এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান তাকে জেরা করেন।
জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী দাবি করেন, সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা চক্রের দুর্নীতির সঙ্গে ইকবাল করিম ভূঁইয়া নিজেও জড়িত ছিলেন। জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি সত্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমি সেনাপ্রধান থাকতে কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছিল। তবে দুর্নীতির সঙ্গে আমি নিজেও জড়িত ছিলাম বলে তদন্ত করিনি; এ কথাটি সত্য নয়।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত করে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কি নাÑ আইনজীবীর এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক এই সেনাপ্রধান ‘না’ সূচক জবাব দেন। তিনি জানান, বিষয়টি তার এখতিয়ারভুক্ত ছিল না বলেই তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করলে সেনা আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে জিয়াউল আহসান র্যাবে কর্মরত থাকায় তার আদেশ অমান্যের জন্য কোনো ‘ওয়ার্নিং’ বা ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী হাসান দাবি করেন, সেনাপ্রধান থাকাকালীন ইকবাল করিমের সব বৈধ আদেশই জিয়াউল আহসান মেনে চলেছেন এবং কোনো কিছুই অমান্য করেননি। এর প্রত্যুত্তরে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ‘জিয়াউল আহসান আমার কোনো বৈধ আদেশ অমান্য করেননি এ তথ্যটি সত্য নয়।’ টানা চার দিনব্যাপী জেরা শেষ হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।