ঢাকার গুলশানে ফ্ল্যাট দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ দুইজনকে আদালতে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন পিছিয়ে ৮ এপ্রিল ধার্য করেছে আদালত। অপর আসামী হলেন-রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন। গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ দিন ঠিক করে দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম বলেন, গেল ৮ মার্চ আসামীদের আদালতে হাজির হতে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) গেজেট বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ঈদের ছুটি থাকায় নির্ধারিত সময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। এজন্য নতুন করে দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গেল ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক থাকায় টিউলিপসহ দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারি করে একই আদালত। এই আদালত দুদকের আবেদন নিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেয়।
ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় অবৈধ সুবিধা নিয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম মামলা করেন। মামলায় টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়াও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনকে আসামী করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর ফ্ল্যাট {ফ্ল্যাট নম্বর বি/২০১, বাড়ি নম্বর ৫এ ও ৫বি (পুরোনো), বর্তমানে- ১১৩, ১১বি (নতুন), রোড নম্বর ৭১} দখল নেন এবং পরে দলিল নিবন্ধন করেন। মামলার পর গত বছরের জুলাই মাসে আসামী শাহ খসরুজ্জামান তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ আদেশ পায়। খসরুজ্জামানকে ছাড়াই বাকি দুই আসামীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর গেল ১৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর আগে পূর্বাচল নতুন শহরে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির আলাদা তিন মামলায় দুই বছর করে ছয় বছরের কারাদ- হয়েছে টিউলিপ সিদ্দিকের।
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার ও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এক ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড দামের একটি ফ্ল্যাট উপহার পাওয়ার খবর নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে ইস্তফা দেন টিউলিপ সিদ্দিক।