হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি নামসর্বস্ব বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বরমপুর গ্রামে অবস্থিত পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামের এনজিওটির কার্যালয় মূলত সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের নিজ বাসার একটি কক্ষ। লোকবল বলতে তিনি নিজেই সবকিছু দেখভাল করেন। কার্যত কোনো পূর্ণাঙ্গ দপ্তর বা জনবল না থাকলেও এবারের নির্বাচনে এই সংস্থাটিই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য দেশীয় ৮১টি সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থার মোট অনুমোদিত পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে শুধু পাশার মাধ্যমেই নিয়োগ পাচ্ছেন ১০ হাজার ৫৫৯ জন পর্যবেক্ষক, যা মোট দেশীয় পর্যবেক্ষকের প্রায় ১৯ শতাংশ।
স্থানীয়দের মতে, একজন ব্যক্তিনির্ভর এবং বাস্তব কার্যক্রমহীন একটি সংস্থার মাধ্যমে এত বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও সতর্ক ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে পাশার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।