স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রেমিকের হাতে নৃশংসভাবে এক নারী নিহত হওয়ার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টায় উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পরিচয়হীন, ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধারকৃত একটি লাশকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ক্লুলেস এই মামলায় দ্রুততম সময়ে ঘাতককে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে পুলিশ।
গত ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে শ্রীপুরের গোসিংগা ইউনিয়নের পাচুলটিয়া এলাকার গুপ্তবাইদ গাজারি বাগানের একটি আবাদি জমিতে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ পাওয়া যায়। লাশের মাথার বাম পাশে রক্তাক্ত জখম, নাক-কান দিয়ে রক্ত নির্গত, বোরখায় আগুনে পোড়া দাগ, গলায় উড়না পেঁচানো ও ডান পায়ের মাংস খসে হাড় বেরিয়ে ছিল—যা একটি ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।
ঘটনাস্থলে কর্মরত পিবিআই-এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট টিম লাশের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত নারী সুমা আক্তার (২৫), পিতা মৃত বাবুল মিয়া, গ্রাম কচুয়ারচর, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা। পরে তাঁর মা মমতা বেগম (৭০) শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পরপরই পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীনের সার্বিক নির্দেশনায়, কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে, শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম মাঠে নামে।
অভিযানিক দল মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতক রাসেল (২৪)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ সত্য—
একই গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতে গিয়ে রাসেল ও সুমার পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন বছর ধরে আলাদা বসবাস করলেও সুমা রাসেলকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু রাসেল নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছিল।
গত ৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাসেল সুমাকে গুপ্তবাইদ গাজারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়েকে কেন্দ্র করে দুথজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে রাসেল কিল-ঘুষি-লাথি মেরে সুমাকে ফেলে দেয় এবং গলায় উড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
মামলায় ধারা ৩০২/২০১/৩৪ যুক্ত করে আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।আদালতে সোপর্দ করলে তিনি ফৌজদারি কার্যিবধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।