কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার কারণে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে এক কৃষকের তরমুজ ক্ষেত লন্ডভন্ড করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা তরমুজের চারা উপড়ে ফেলে ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছে। অপরদিকে কালিগঞ্জ বিএনপি সমর্থকদের হামলায় স¦তন্ত্র প্রার্থীর নারী পুরুষসহ ৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আমিন আলী দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সংসারের খরচ নির্বাহ করতে তিনি দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার তরমুজ ক্ষেতে ঢুকে চারাগাছ উপড়ে ফেলে জমির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়।

গতকাল সোমবার সকালে জমিতে গিয়ে দেখা যায় আশপাশের জমিগুলোতে তরমুজের চারা ঠিকঠাক থাকলেও কেবল মাওলানা আমিন আলীর ক্ষেতেই এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।তাদের দাবি, তরমুজ চাষই ছিল এ মৌসুমে তাদের একমাত্র ভরসা। এখন চারা নষ্ট হওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

ঘটনার বিষয়ে আমিন আলীর ভাই সদস্য মোমিন আলী বলেন, “আমার ভাই গরিব মানুষ, দিনমজুর। খেতে-খামারে কাজ করে সংসার চালায়। তার সঙ্গে এমন জঘন্য আচরণ হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন মাওলানা আমিন আলী। নির্বাচনের কয়েকদিনের মধ্যেই তার জমিতে এমন ঘটনা ঘটায় পরিবারটির ধারণা রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

এলাকাবাসীরা জানান, মাওলানা আমিন আলী স্থানীয় মক্তবে পড়ানোর পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। কৃষিকাজই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। স্থানীয়ভাবে তার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই বলেও দাবি করেন তারা। এলাকাবাসীর ধারণা, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়া এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরব ভূমিকা রাখাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অপরদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন অফিস দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র ধানের শীষের সমর্থকদের সন্ত্রাসী হামলা ও বেধড়ক পিটুনিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ৮ জন নারী-পুরুষ কর্মী, সমর্থককে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা মোজাম মোড় এলাকায়। সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহতরা হলো ফতেপুর গ্রামের মীর জিয়াদ আলীর পুত্র দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম আকুল মেম্বর (৫০), মৃত সৈয়দ আলী কারিকরের পুত্র আব্দুস সাত্তার (৬২), জিয়াদ আলীর পুত্র মীর শাহিনুর রহমান (৪০), আতিয়ার রহমানের পুত্র শফিউল আজম (৪৮), হাসানুজ্জামান লিটনের স্ত্রী অজিফা বেগম (২৪) ,মীর মনিরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৪), আনোয়ারুল ইসলাম আকুল মেম্বারের পুত্র সাদিকুল ইসলাম (২০), এবং মীর শাহিনুর রহমানের স্ত্রী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মরিয়ম খাতুন (২৬)। জানা যায় সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আহতরা ডাঃ শহিদুল আলম (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করেন। ডাঃ শহিদুল আলমকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না দেওয়ায় (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ডাঃ শহিদুল আলম সহ প্রায় ৩ শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপরও বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে বহু নেতা, কর্মী, সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ফতেপুর মোজাম মোড় অফিসে কাজ করেন।