চট্টগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা ও নাটোরে অবৈধভাবে জ¦ালানি তেল মজুত ও কেনাবেচার সময় মজুত চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ৪৭ হাজার লিটার জ¦ালানি তেল। জরিমানা করা হয়েছে এক লক্ষ্য টাকা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জানান চট্টগ্রামে অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।

গতকাল সোমবার বিকেল থেকে সীতাকু-ের ফৌজদারহাট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তিনটি বড় ট্যাংকারে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব ট্যাংকার থেকে তেল ড্রামে ভরে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। তবে অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা বাড়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি করে যারা অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দেশে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ এই অভিযানে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও কেনাবেচার সময় একটি তেলবাহী লরিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ১১ হাজার লিটার ডিজেল ও পেট্রোল। গত রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আলমডাঙ্গা থানাধীন কয়রাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরা হয়। আটককৃতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদরের দৌলতদিয়াড় মাঝেরপাড়ার মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে লরি চালক মোঃ আলী হোসেন (৫৩), একই এলাকার মৃত আবু হোসেনের ছেলে হেলপার মোঃ মোজাম হোসেন (৪৫), দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুর মাঝের পাড়ার মোঃ সানোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ রাহেন আলী (২৮) ও আলমডাঙ্গা কয়রাডাঙ্গার মোঃ শামসুল ইসলামের ছেলে তেল গ্রহীতা মোঃ টিটন আলী (৩৭)।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জানায়, বড়গাংনী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই পবিত্র মন্ডল ও এএসআই মোঃ ইব্রাহীম হোসেনের নেতৃত্বে নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল ও বিশেষ অভিযান চলায়। এ সময় ভালাইপুর-হাটবোয়ালিয়া সড়কের পাশে টিটন আলী নামের এক ব্যক্তির তেল ও চালের দোকানের সামনে একটি তেলবাহী লরি (ঝিনাইদহ-ঢ-৪১-০০১১) থেকে অবৈধভাবে ব্যারেলে তেল আনলোড করা হচ্ছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লরি ও ব্যারেলে থাকা তেলের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় চালক ও হেলপারসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে লরি ও ব্যারেল মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল এবং ৮ হাজার ৭০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে পর¯পর যোগসাজশে অবৈধভাবে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করছিলেন।

সিংড়া (নাটোর) : নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে ১১ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুদ করায় ব্যবসায়ীকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল সোমবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার শেরকোল বাজারের আশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলতাফ শেখকে এই জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, চলমান জ্বালানি তেল সংকটের মাঝে অবৈধভাবে তেল মজুদ করার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শেরকোল বাজারে মেসার্স আশা ট্রেডার্সে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেখান থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৪৯ ব্যারেল ডিজেল, ৫ ব্যারেল অকটেন, ২ ব্যারেল পেট্রোল এবং ২ ব্যারেল লুব্রিক্যান্ট পাওয়া যায়। সবগুলো জ্বালানি তেল মিলিয়ে সেখানে ১১০০০ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল পাওয়া যায়। এ সময় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে মেসার্স আশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলতাফ শেখকে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের জেল প্রদান করা হয়। তাৎক্ষণাত তিনি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা পরিশোধ করেন। সেইসঙ্গে মজুদকৃত তেল ৭ দিনের মধ্যে বিক্রয়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

ইউএনও আরও জানান, এই জ্বালানি তেল বিক্রয়ের জন্য প্রশাসন থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হবে।