রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনাচালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ী সুফিয়া গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

নিহত খায়রুলের গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কাছিকাটা কান্দি গ্রামে। বর্তমানে মাতুয়াইল মধ্যপাড়া আমিনুল ইসলাম হেন্দির বাড়িতে ৩য় তলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোয়াল্লেম সর্দার বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৮জনসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে শনিবার যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন।

খায়রুল হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লেগুনা চলাচল বন্ধ রাখেন চালকরা।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ি লেগুনায় যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে নুরে আলম ইসলাম ওরফে খায়রুল (৩৫) নামের এক লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ি- চিটাগাং রোড সড়কে দৈনিক শতাধিক লেগুনা চলাচল করে। প্রতি লেগুনা থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ওয়ারি ট্রাফিক পুলিশের নামে মাসিক ১ হাজার টাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশের নামে ৫'শ টাকা ও লাইন ম্যানের জন্য ৪০ টাকা হারে আদায় করা হয়। এ চাঁদাবাজির আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ি ও চিটাগাং রোড লেগুনা স্ট্যান্ডে বিরোধ চলে আসছে।

নিহতের খালাতো ভাই ওমর ফারুক বলেন, ‘হৃদয় নামে এক চালক রোডে গাড়ি চালাতে গেলে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় নুরে আলমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওর তিন বছরের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। তাকে কী বুঝ দেব এখন। জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’