লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরে শুভ পোদ্দার নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মুখ বেঁধে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীবেশে একজন নারী ও একজন পুরুষ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার সঙ্গে অটোরিকশা চালকও জড়িত রয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পিয়রাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী শুভ কমলনগর উপজেলার হাজির হাট বাজারের ওয়েলকাম জুয়েলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী।
শুভ পোদ্দার জানান, তিনি প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে যান। সেখানে স্বর্ণের দোকানে তিনি ১০ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করেন। স্বর্ণ বিক্রির ২১ লাখ টাকার চেক ও বাকি ৩০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে তিনি চন্দ্রগঞ্জ থেকে চলে আসেন। ঘটনার সময় অপরিচিত অটোরিকশায় করে তিনি জেলা শহর থেকে হাজিরহাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। তার সঙ্গে যাত্রীবেশে অপরিচিত একজন মহিলা ও পুরুষও ওঠেন। পিয়ারাপুর এলাকায় পৌঁছালে অপরিচিত নারী পুরুষ তার মুখ বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর। তবে তার পকেটে স্বর্ণ বিক্রির ২১ লাখ টাকার চেক নেয়নি দুর্বৃত্তরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার জানান, স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। এমন ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠনো হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্ত চলছে। এ নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
নোয়াখালী সংবাদদাতা : ৪ জানুয়ারি (রবিবার), নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদীর নোয়াখালী সুপার মার্কেটে ১২০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছেন। প্রায় ৬শ ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ রেখে মার্কেটের প্রধান ফটকের সামনে ডিসি সড়কে অবস্থান নেন।
তারা দাবি করেন, বৃহস্পতিবার রাতে সুপার মার্কেটের একটি স্বর্ণের দোকান থেকে চোরেরা স্বর্ণ চুরি করেছে। দুই দিন পার হলেও এখনও চোর শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হয়নি, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, মার্কেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের অপরাধ বারবার ঘটছে। তারা প্রশাসনের কাছে চুরির সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মার্কেটে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরির ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্তের জন্য কাজ চলছে।
এ প্রতিবাদের কারণে কয়েক ঘণ্টা মার্কেটের সব ধরনের ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ থাকে, যার ফলে সাধারণ ক্রেতারাও ভোগান্তিতে পড়েন। পরে ব্যবসায়ীরা ছয় দফা দাবি পেশ করেন। প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা শান্ত হন।
সুপার মার্কেটের সভাপতি ইকরাম উল্যাহ দিপ্তি বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। থানায় মামলা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।