গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানা এলাকায় ৯ বছর বয়সি এক শিশু ভাতিজি আপন ফুফা কর্তৃক একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ঐ শিশুর গোপনে আপত্তিকর ছবি ধারণের অভিযোগ উঠেছে। পূবাইল থানা পুলিশ সেলিম খান (৪০) নামে ওই ধর্ষক ফুফাকে গ্রেফতার করেছে। খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

​এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে পূবাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ২ ঘন্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছেন।

​মামলার বিবরণে বলা হয় মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার বিক্রমপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রউফ খানের ছেলে সেলিম খান গত প্রায় ৫ বছর ধরে পূবাইলের হায়দরাবাদ গজারিয়ারটেক এলাকায় তার শ্যালকের (বাদীর) বাসায় সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন।

নিঃসন্তান সেলিম খানের ঘরে বাদীর ৯ বছর বয়সী শিশু কন্যাটি (স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী) প্রায়ই যাওয়া-আসা করত।

গত ২৩ মে দুপুরে সেলিম খানের ঘরে মেহমান আসায় বাদীর বড় মেয়ে ওই কক্ষে যান। সেখানে সেলিম খানের ব্যবহৃত ডেক্সটপ কম্পিউটারটি চালু থাকায় তিনি ছবি দেখতে গিয়ে হঠাৎ তার ছোট বোনের কিছু আপত্তিকর ও অশ্লীল ছবি দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান।

​পরে পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় তাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুটি আরও জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে’র মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত সেলিম খান তাকে চিপস বা বিভিন্ন খাবারের লোভ দেখিয়ে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যেত। সেখানে তাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং সেই অপরাধের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ, আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।