মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ, বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা: সিলেটের বিয়ানীবাজারে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী তাওহীদার মা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিয়ানীবাজার থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুলের বিরুদ্ধে দুই দফা ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে তাওহীদা জান্নাত (১৬)-এর সাথে বিবাদী যে কোন উপায়ে অসম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই সম্পর্কের জের ধরে বিবাদী আমার মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। ঘটনার দিন ভোর ৪ টার দিকে বিবাদী আমার মেয়ের শয়নকক্ষে অনধিকার প্রবেশ করে পুণরায় ধর্ষণ করে। ..... । ঘটনা পরবর্তী সময়ে বিবাদীর সাথে আমার মেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করে। তখন বিবাদী উত্তেজিত হয়ে গলায় ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে আমার মেয়েকে মরে যাওয়ার প্ররোচনা দেয়। আমার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে বিবাদী কর্তৃক একাধিকার ধর্ষণের শিকার হয়ে এবং তার প্রতারণায় লোকলজ্জার ভয়ে গত ২৯শে মে ২০২৬ইং রাত অনুমান ১০টার দিকে শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

বিয়ানিবাজার ছাত্রদল, ধর্ষণ ২

নিহত শিক্ষার্থী তাওহীদার মায়ের দায়েরকৃত এজাহার

নিহত তাওহীদা (১৬) বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পশ্চিমপার এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরদিন শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে। তাওহীদার মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে নিহতের মায়ের দায়ের করা এজাহারে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ। জানা গেছে, ফোনটিতে কোনো সিম কার্ড না থাকলেও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করত তাওহীদা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে কার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল, কার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি কথোপকথন হয়েছে এবং তার ডিজিটাল যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিশ্বস্ত একটি সূত্রের দাবি, তাওহীদার মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্যের সন্ধান পেয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে তাওহীদার আত্মহননের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকার কিছু সমাজপতি ও দলীয় নেতারা দফায়-দফায় বৈঠক করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বড় অঙ্কের লেনদেনে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে পরিবার এবং স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা কিংবা ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে-ই থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।

উল্লেখ্য, নিহত শিক্ষার্থীর মা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিয়ানীবাজার থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।