ঢাকা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে গণসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবির মাথায় রামদা দিয়ে কুপিয়ে যখম করেছে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার মাথায় ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। এদিকে, নির্বাচনী গণসংযোগকালে জামায়াত নেত্রীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি ইমন আশরাফ জানান, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে গণসংযোগকালে কদমতলীর ৫২ নং ওয়ার্ডের ডিপটির গলির কাইল্লা পট্টিতে যুবদলের সন্ত্রাসীরা জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা করে। সন্ত্রাসীরা জামায়াতের রুকন ও মহিলা নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবির মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয় চিকিৎসকদের। ইমন আশরাফ বলেন, হামলার কিছুক্ষণ আগে ঢাকা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের চাচাতভাই ও স্থানীয় যুবদল নেতা রমজানের নেতৃত্বে জামায়াতের নারী কর্মীদের পথরোধ করে গণসংযোগে বাধা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায় তারওপর হামলা চালানো হয়। আহত কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি জানান, ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রচারণার অংশ হিসেবে কদমতলীর ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে কাজ করছিলেন তারা। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং জয়নুল আবেদীনকে তারা চেনেন না বলে বিভিন্ন কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, পরে তারা একটি সরু গলির মধ্যে প্রবেশ করলে হঠাৎ করে কেউ তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। হামলাকারীকে তিনি দেখতে পাননি। আহত অবস্থায় এক রিকশাচালক তাকে কাছেই এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাসায় ফিরে যান। তার মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ বিষয়ে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, জামায়াতের একজন নারী আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
জামায়াতের নিন্দা
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর আরেক প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা হামলা চালানোর ঘটনা নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্রের অংশ। যারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছে তারাই সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে না বলেই তারা বিরোধী দলমত সহ্য করতে পারে না। তারা একটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা যেতে চায়। সেজন্য তারা নির্বাচনে প্রতিপক্ষদের দমন করার চেষ্টা করছে। প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়। তাঁরা আরও বলেন, সর্বস্তরের সকল দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না থাকায় সারাদেশে একটি দলের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে জনগণ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের নেতাকর্মীর কাছে মা-বোন নিরাপদ নয়; তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জান ও মালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনের প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন হলেও কমিশন ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি কমিশন ও প্রশাসন যদি কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করে তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করতে বাধ্য হবে। এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের অনতিবিলিম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।